তথ্য জানার সহজ মাধ্যোম

এথ্যিক্যাল হ্যাকিংঃ পর্ব ২; হ্যাকিং পরিভাষা [Terminologies] [ব্যাসিক]

হ্যাকিং পরিভাষা

আপনি সারা দিন ভাত খাচ্ছেন, কিন্তু আপনি জানেন না এটার নাম ভাত। এখন কেও যদি আপনাকে জিজ্ঞাসা করে আপনি খাচ্ছেন? তখন আপনার কাছে উত্তর দেয়ার মত কিছু থাকবে? বা আপনি যদি কোন সময় রান্না শিখেন বিরিয়ানি কিভাবে বানাতে হয়, কিন্তু আপনি তো এটাই জানেন না ভাত কি? তাহলে বিরিয়ানি রান্নার টিউটোরিয়াল দেখে কোন লাভ আছে? আপনি ভাত খান কিন্তু জানেন না এটা ভাত। ঠিক এমনি ভাবে হ্যাকিং এর ভাষা গুলোর নাম না জেনে কাজ জেনে কোন লাভ হবে না। আপনি যদি অন্য কোন টার্মের কাজ করতে যান তখন কোন একটা পার্ট আপনার সামনে চলে আসবে। বলতে পারেন একে অপরের সাথে খুব নিবির ভাবে জড়িত। আর ঠিক এই জন্যই আজকে জানাবো হ্যাকিং পরিভাষা, কোন টার্মের নাম কি? হ্যাকিং এর ক্ষেত্রে এদের কি বলে ডাকা হয়ে থাকে। বেশি কথা না বলে আসল কাজে চলে যায়। এখানে আমি সবত্থেকে গুরুত্বপূর্ন বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করবো।

Adware

হ্যাকিং পরিভাষা
হ্যাকিং পরিভাষা

এড ওয়্যার হচ্ছে হ্যাকদের বানানো একধরনের সফটওয়্যার। যেটা ডিজাইন করা হয় কোন পিসি বা মোবাইলের মাঝে ঢুকে নিজস্ব কিছু এড দেখনোর জন্য। এইসব সফটওয়্যার গুলো হ্যাকারা বানিয়ে থাকে, আপনার পিসিতে বা ব্রাউজারে তাদের এড দেখিয়ে থাকে বা এড দেখানোর জন্য ফোর্স করে থাকে। কিছু কিছু সফটওয়্যার আপনার ব্রাউজার হিস্টোরি, কুকি এইসব সংগ্রহ করে রেখে দেয়। যা তারা পরে অনেক ইলিগ্যাল কাজে লাগিয়ে থাকে।

Back Door

Back Door এমন একটা পন্থা যেটা দিয়ে আপনি কোন ওয়েব সাইট বা কম্পিউটারের মাঝে হিডেন হয়ে লগইন করতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে কোন লগইন করার প্রয়োজন হবে না। নাম শুনেই হয়তো বুঝতে পারছেন আসলেই এর কাজ টি কেমন। পেছনের দরজা, মানে আপনি ঘরে ঢুকতে পারবেন ঠিকই কিন্তু পেছনের দরজা দিয়ে।

Attack

Attack হচ্ছে একটা একশন। যার মাধ্যমে আপনি ভিকটিমের ডাটা পেতে বা পাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

Bot

Bot হচ্ছে একটা প্রোগ্রাম বা স্রিপ্ট। যেটা মানুষের মত কোন কাজ নিজে নিজেই করতে পারে। যেটার মাঝে নিদির্ষ্ট করে প্রোগ্রাম করে দেয়া থাকে। এটার সব থেকে ভাল উদাহরণ গুগোল বট বা বিং বট। এইসকল বট গুলো সকল ওয়েব সাইট কে ক্রাউল করে থাকে। একটা মানুষ যদি এই কাজ করতে যেত তাহলে হয়তো তার সারা জীবন লেগে যেতে পারতো। কিন্তু একটা বট এই কাজ মানুষের মত করেই বার বার একই টাস্ক করে থাকে।

Botnets

Botnets হচ্ছে অনেক গুলো বটকে একসাথে একই নেটওয়ার্কের নিচে এনে পরিচালনা করা। এটা মূলত ব্লাক হ্যাট হ্যাকার করে থাকে। Botnet কে আপনি Zombie Army এদের সাথেও তুলনা করতে পারেন। Botnet এর ব্যবহার হয়ে থাকে মূলত ডিডস এট্যাক, spamming, mail bombing এই সব এর ক্ষেত্রে।

Brute force attack

Brute force attack এই নাম টি হয়তো অনেকেই শুনে থাকবেন। বলতে পারেন অনেক প্রচলিত একটা নাম। এই প্রচলিত হবার কারণই হচ্ছে হ্যাকারদের কাছে জনপ্রিয়তা। Brute force attack কাজ হচ্ছে কোন লগইন পেজে আলাদা আলাদা কম্বিনেশেনে ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড ইনপুট করে লগইন করা। আপনি একে একটি ক্র্যাকার বলতে পারেন।

Clone phishing

হ্যাকিং পরিভাষা
হ্যাকিং পরিভাষা

ক্লোন ফিশিং হচ্ছে কোন ওয়েব সাইটের ফেক লগইন বানিয়ে, ইউজার দের তথ্য চুরি করে নেওয়ার একটা ট্রিক মেথড। এটা অনেক জনপ্রিয় ও বলতে পারেন এটা সারা জীবন ধরেই জনপ্রিয় থাকবে। এটা নির্ভর করে হ্যাকার কতটা বুদ্ধিমান ও হ্যাকার কতটা সময় উপযোগী ভাবে ইউজারদের বোকা বানাতে পারে। হ্যাকার যদি সঠিক ভাবে তার কাজ টি করতে পারে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ইউজার গণ বোকা বনে যেতে বাদ্ধ হয়ে পরেন।

Denial of service attack (DoS)

এই সব নিয়ে আমি কিছুই বলবো না তেমন ভাবে কেননা এর আগে এইসব নিয়ে অনেক বিষদ ভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আপনি যদি না পড়ে থাকেন তাহলে এইন আর্টিকেল টি পড়ে আসুন।

Malware

ম্যালওয়্যার hacking terminology.সব থেকে সুন্দর বিষয়। এটা হচ্ছে শুধু মাত্র একটা কিছু প্রোগ্রামিং যা হ্যাকার রা ভিকটিমের পার্সোনাল ডাটা, পাসওয়ার্ড ইত্যাদি চুরি সহ পুরো সিস্টেম ক্রাশ করিয়ে দিতে পারে। এটা নিয়ে বিস্তারিত জানতে এই আর্টিকেল টা পরে আসতে পারে। 

Spoofing

Spoofing  হচ্ছে খুব জনপ্রিয় ও সর্বাধিক ব্যবহার করা একটা মেথড। একজন হ্যাকার এই মেথড ব্যবহার করে থাকবেই। এটা এমন একটি মেথড যেটা দিয়ে কম্পিউটার কে বোঝানো হয় তার কাছে অরজিনার হোস্ট থেকে রিকুয়েস্ট আসছে। কিন্তু পুরোটাই থাকে ফেক।  

Email Spoofing

এটা নিয়ে আমি আলাদা করে কোন আলোচনা করতে চাচ্ছি না। কেননা এটা নিয়ে আমি আগেই অনেক বিশাল একটা আর্টিকেল লিখেছি। আপনি চাইলে এই আর্টিকেল দেখে পুরো বিষয় টা শিখে আসতে পারেন। তবে এটি হচ্ছে সব থেকে বেশি সফল একটা পন্থা। ধারনা এটা যে বাংলাদেশ ব্যাংক হ্যাকিং এর ক্ষেত্রেও ইমেইল স্পুফিং করা হয়েছিল (ব্যাক্তিগত মতামত)

Buffer Overflow

এটা এমন একটা টেকনিক যেটা দিয়ে কোন কম্পিউটার বা সিস্টেম এর মেমোরি কে বেশি বেশি ডাটা রাইট করার মাধ্যমে হ্যাং করে দেওয়া হয়। 

Encryption

এটা নিয়ে হয়তো কাওকে তেমন কিছুই বলা লাগবে না। এটার মাধ্যমে যে কোন ইনফোরমেশন বা ডাটা ইনকোড হয়ে যায়। এটার যেমন ভাল দিক আছে তেমনি খারাপ দিক আছে। যেমন আপনার মেইল যদি ইনক্রিপ্ট করা না থাকে তাহলে হ্যাকার সেটা হ্যাক করে পড়ে নিতে পারবে। যেমন ধরুন কেও যদি ম্যান ইন দ্যা মিডিল এট্যাক দেয় তবে এটা সম্ভব হত। আর খারাপ দিক হচ্ছে র‍্যানসম ওয়্যার এর মত ভাইরাস পুরো কম্পিউটার টা ইনক্রিপ্ট করে দেয়।

এই গুলোই আপাতত ছোট করে বলা সম্ভব হইলো বাকি গুলো এত ছোট করে বলা সম্ভব না। যেমন RooTkit, Worm, Clocking. তবে একে একে সব ট্রাম গুলো নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। আমাদের ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করুন। 

যদি আর্টিকেল ভাল লেগে থাকে তাহলে আমাদের সাথে থাকুন। পরের পর্বে কি দিব সেটা কমেন্ট করে জানান ।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.