তথ্য জানার সহজ মাধ্যোম

র‍্যাম কি? র‍্যাম কিভাবে কাজ করে?

র‍্যাম নিয়ে সকল খুটি নাটি।

র‍্যাম তো আমরা সবাই ব্যবহার করি। কিন্তু আপনি কি জানেন র‍্যাম কিভাবে কাজ করে? র‍্যামের সকল প্রয়োজন ও র‍্যাম কিভাবে কাজ করে তা জানতে আমাদের এই আর্টিকেল টি পড়ুন।

কি ভাবে একটি হ্যাকিং পেনড্রাইভ বানাবেন? যা কম্পিউটারে এ ঢুকানো মাত্র সকল পাসওয়ার্ড চুরি করে নেবে অটোমেটিক ভাবে।

পাবজি খেলবো কিন্তু ফোনের র‍্যাম ১ জিবি, আহা কি ঝামেলা দেখুন তো। এখন আবার ফোনের র‍্যাম বাড়াতে, নতুন RAM কিনতে হবে। র‍্যাম কথা টার সাথে তো আমরা সবাউ কম বেশি পরিচিত। কিন্তু RAM কি? আবার DD3, DD4, DD5 এই সব র‍্যাম গুলো কি তা কিন্তু আমরা কেও তেমন ভাবে জানি না। আপনি র‍্যাম নিয়ে না জেনে থাকেন তাহলে আমাদের এই আর্টিকেল টি পড়ুন। আপনার সকল প্রশ্নের সমাধান করে দিব এই একটি আর্টিকেলের মাঝেই।

RAM কি

র‍্যাম হচ্ছে তড়িৎ মেমোরি। যা ক্ষনস্থায়ী, আপনি যখন আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলে কোন কাজ করবেন তখন সেই কাজের জন্য যে মেমোরির প্রয়োজন পরে সেটা করে র‍্যাম করে। আপনি যতক্ষণ কাজ করবেন না, ততক্ষন আপনার র‍্যাম কাজ করবে না। বলতে পারেন অনেক টা আপনার আমার ক্ষনস্থায়ী মেমোরির মত। একটা উদাহরণ দেই তাহলে আরো ভাল ভাবে বুঝবেন, মনে করুন আপনি পানি খাবেন, আপনার কাছে বোতল আছে। পানি বোতলে ভরে খেয়ে নিলেন। আবার যদি ঠান্ডা কিছু খেতে মন চাই সেটাও খেতে পারবেন বোতলে ভরে। এই বোতল টাই হচ্ছে RAM। আপনার কম্পিউটার বা মোবাইল র‍্যাম কে ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যবহার করে। তাই বেশি পানি খেতে চাইলে বোতল বড় করেন নাহলে আর পাবজি খেলা যাবে না। :p

কিছু প্রয়োজনীয় উইন্ডোজ কমান্ড, যা সম্পর্কে আপনার জানা উচিৎ।

RAM এর কাজ কি

আমাকে যদি র‍্যাম নিয়ে কথা বলতে দেওয়া হয় তাহলে আমি বলবো র‍্যাম হচ্ছে এই পৃথীবির সব থেকে থেকে নিরিহ জীব। যদিও এটা বস্তু। কেননা আমরা তাকে ব্যবহার করি কিন্তু তাকে মনে রাখি না। কেমন করে ব্যবহার করি শুনবেন? শুনুন তাহলে জীবনে কোন কিছু কপি করেছেন? যদি না করে থাকেন তাহলে করেন তো একটু। এই লেখা টা কপি করে পেস্ট করেন। কি করেছেন তো? আপনি যে কপি করলেন তো লেখা টা কোথায় কপি ছিল? আপনি কি মেমোরিতে কপি করছিলেন নাকি, করছিলেন তো ক্লিপ বোর্ডে। তাহলে এই লেখা টা কপি অবস্থায় ছিল কোথায়? হুম, সে র‍্যামেই ছিল। আপনি র‍্যামকে ভুলে যেতে পারেন র‍্যাম আপনাকে ভুলেও ভুলে যাচ্ছে না। আর এটাই র‍্যামের কাজ। আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলের যত সফটওয়্যার জনিত কাজ তার মেমোরি এই র‍্যাম প্রদান করে। তাই র‍্যাম কে ভালবাসুন। আর আপনি একজন গেমার হয়ে থাকলে র‍্যাম কে দুদু খাওয়ান আর এর পুষ্টি বাড়ান। :p

ram এর প্রকারভেদ

র‍্যাম কি
র‍্যাম কি

র‍্যাম কিন্তু অনেক ধরণের হয়ে থাকে, যেমন, ৪ জিবির DDR3 র‍্যাম হয় আবার ৪ জিবির DDR4 র‍্যাম হয়। কিন্তু র‍্যামের প্রকারভেদ কিন্তু এই গুলো র‍্যাম সাধারণত হয়ে থাকে ৬ ধরণের

ড্রোন কি? ড্রোন কিভাবে কাজ করে? বিস্তারিত জানুন

    • Static RAM (SRAM)
    • Dynamic RAM (DRAM)
    • Synchronous Dynamic RAM (SDRAM)
    • Single Data Rate Synchronous Dynamic RAM (SDR SDRAM)
    • Double Data Rate Synchronous Dynamic RAM (DDR SDRAM, DDR2, DDR3, DDR4)
  • Graphics Double Data Rate Synchronous Dynamic RAM (GDDR SDRAM, GDDR2, GDDR3, GDDR4, GDDR5)

আমরা RAM বলতে যা বুঝি তা হচ্ছে Double Data Rate Synchronous Dynamic র‍্যাম কে। কিন্তু এই গুলো ছাড়াও আরো অনেক র‍্যাম আছে। এখন জানবো এই সকল র‍্যামের বিস্তারিত।

Static RAM (SRAM)

Static RAM (SRAM) প্রথম মার্কেটে আসে ১৯৯০ সালে যা এখনো বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স প্রোডাক্টে ব্যবহার করা হয়। যেমন ধরুন ডিজিটাল ক্যামেরা, রাউটার, পিন্টার ইত্যাদি তে। এই র‍্যাম গুলো সাধারণত কোন ডাটা স্টোর করে রাখে না। তাই রিফ্রেশ করার কোন ঝামেলা নাই। মূলত এই কারণেই একে স্ট্যাটিক র‍্যাম বলা হয়ে থাকে। এটা হচ্ছে ব্যাসিক একটা র‍্যাম।

Dynamic RAM (DRAM)

যে ২ টি ব্যাসিক RAM আছে তার মাঝে আরেক টি হচ্ছে এই DRAM. এটা মার্কেটে আসে ১৯৭০এ ও ১৯৯০ এর মাঝামঝি সময়ে এর ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায় । এই র‍্যাম গুলো কাজ করার জন্য রিফ্রেশের প্রয়োজন পরে। ভিডিও গেম কনসোল, নেটওয়্যার্ক হার্ডওয়্যার ইত্যাদিতে এই র‍্যাম ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই র‍্যাম গুলো ডাকা স্টোর করে রেখে দিতে পারে। কিন্তু বিদ্যুত প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলেই এই র‍্যামের সকল স্টোর করা তথ্য গায়েব হয়ে যাবে। মানে আমাদের কম্পিউটারের র‍্যাম হচ্ছে এক ধরণের DRAM।

Synchronous Dynamic RAM (SDRAM)

SDRAM মার্কেটে আসে ১৯৯৩ সালে ও যা এখন পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই RAM গুলো সাধারণত কম্পিউটার ও ভিডিও গেম কনসোলে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই র‍্যাম আসার পর থেকেই DRAM এর ব্যবহার শেষ হয়ে যায়। কিন্তু নাম দেখেই তো বুঝতে পারছেন SDRAM হচ্ছে DRAM এর একটি নতুন সংস্করণ। এই র‍্যাম গুলো সিপিইউ এর সাথে সিঙ্ক হয়ে কাজ করে। আর এই কারণেই এটা খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠে।

Single Data Rate Synchronous Dynamic RAM (SDR SDRAM)

SDR SDRAM হচ্ছে SDRAM এর আরেকটি ভার্শন। আমরা সাধারণ যেসকল র‍্যাম গুলো ব্যবহার করে থাকি সেই র‍্যাম গুলোর প্রথম ধাপ আপনি এটাকেই বলতে পারেন। একে আপনি DDR র‍্যাম বলেও ডাকতে পারে। যদিও DDR SDRAM হচ্ছে 2nd genaration SDR SDRAM কিন্তু এটাকে SDR SDRAM না বলে DDR SDRAM হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। এই র‍্যাম গুলো সাধারনত ব্যবহার করা হয়ে থাকে কম্পিউটারে ও ভিডিও গেম কনসোলে। এটিও প্রথম মার্কেটে আসে ১৯৯৩ সালে, যা এখন পর্যন্ত চলছে।

Double Data Rate Synchronous Dynamic RAM (DDR SDRAM)

DDR SDRAM আমরা এখন যেসকল র‍্যাম ব্যবহার করে থাকি তার সব গুলোই এই ধরের র‍্যামের মাঝেই পরে থাকে। ২০০০ সালে এই র‍্যাম প্রথম মার্কেটে আসে, যা এখন পর্যন্ত চলছে। এই র‍্যাম সবথেকে বেশি ব্যবহার করা হয় কম্পিউটারে। আমরা যেসকল DDR2, DDR3, DDR4 র‍্যাম চিনে থাকি তার সব গুলোই এই র‍্যামের আওতাভুক্ত।

DDR2 হচ্ছে DDR SDRAM এর পরবর্তী ভার্শন। এই র‍্যামেই প্রথম ডাবল ডাটা রিড ও রাইট করার মত ফিচার নিয়ে আসা হয়। এটা অন্যান্য র‍্যামের থেকে অনেক বেশি ফাস্ট হয়েছিল কেননা এটা অনেক ক্লক স্পিডে রান করতে পারতো। DDR যেখানে ছিল সর্বোচ্চ ২০০ মেগা হার্জ DDR2 ছিল ৫৩৩ মেগা হার্জের। কিন্তু মাত্র 1.8 ভোল্টেজেই চলতো এই র‍্যাম। এর পিনের সংখ্যা ২৪০ টি।

DDR3 SDRAM হচ্ছে DDR2 SDRAM এর পরের ভার্শন। এই র‍্যামে তেমন কোন আলাদা ফিচার নেই। কিন্তু এটা DDR2 র‍্যামের থেকেও অনেক ফাস্ট ছিল। কেননা এটি ছিল ৮০০ মেগা হার্জের থেকেও বেশি।

তাছাড়া এটিতে ছিল ওভার ক্লক করার সুবিধা। কিন্তু এটিতে সমান পরিমান পিন আছে DDR2 এর মতই।

DDR4 SDRAM হচ্ছে DDR3 SDRAM এর পরের ভার্শন। এটা বাকি সকল র‍্যামের থেকে অনেক গুনে বেশি ফাস্ট। এটাতে যেমন আছে অনেক বেশি মেমোরি, তেমনি এটি মাত্র 1.2 ভোল্টের। এটি সর্বোচ্চ ১৬০০ এর উপরে মেগাহার্জ সম্পন্ন। সাথে এটাতে ব্যবহার করা হয়েছে ২৮৮ টি পিন বলতেই পারেন এটা অন্যান্য র‍্যামের তুলনাই অনেক গুনে বেশি ফাস্ট।

Graphics Double Data Rate Synchronous Dynamic RAM (GDDR SDRAM)

আমরা GPU এর কথা তো সবাই জানি। হ্যাঁ, আমাদের গ্রাফিক্স কার্ডে যে সকল র‍্যাম ব্যবহার করা হয় সেই গুলোই হচ্ছে GDDR SDRAM। এটি প্রথম মার্কেটে আসে ২০০৩ সালে। জানা কথাই যে এটি গ্রাফিক্স কার্ডে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এখন কিছু কিছু ট্যাবলেটেও এই র‍্যাম ব্যবহার করা হয়। এটাও SDRAM র‍্যামের একটা ডাল বলতে পারেন। কিন্তু এটিকে বানানো হয়েছে বিশেষ করে ভিডিও রেন্ডারিং এর জন্য।

বেসিক কম্পিউটার নিরাপত্তাঃ কিভাবে ভাইরাস, হ্যাকার এবং চোর থেকে নিজের কম্পিউটারকে রক্ষা করবেন?

Mobile ram এর কাজ কি

আপনার কম্পিউটার যেমন র‍্যামের প্রয়োজন রয়েছে ঠিক তেমনি ভাবে আপনার মোবাইল ফোনেও র‍্যামের প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে আপনার ফোনে যত বেশি র‍্যাম হবে তত বেশি আপনার জন্যই ভাল। কেননা বর্তমানে ফোনের এপস গুলো বেশি আপডেট হয়ে গেছে। সেই কারণে এই সকল এপস গুলোর ডাটা রাইট ও রিড করার জন্য RAM বেশি ব্যবহার হয়। কিন্তু আপনার ফোনে যদি র‍্যাম বেশি না থাকে তবে আপনার ফোনে বেশি এপস বা টাস্ক আপনি রান করাতে পারবেন না। তাছাড়া আপনি বা আমি যেসকল এন্ড্রোয়েড ফোন ব্যবহার করি, সেই ফোন গুলো লিনাক্স কার্নেলের ওপর ভিত্তি করে বানানো। আর এই কার্নেলে বেশির ভাগ ফাইল রান হওয়ার সময় ডি-কম্প্রেস হয়ে রান হয়। যার পুরোটাই র‍্যামের ওপর প্রোসেস হয়। এছাড়া আপনি বা আমি যেসকল গেম খেলি তার জন্য কিন্তু GPU এর প্রয়োজন কিন্তু ফোনে GPU না থাকাই র‍্যামকেই GPU হিসাবে ব্যবহার করা হয়। যদিও বর্তমানে কিছু ফোনে GPU ব্যবহার করতে দেখা গেছে। যদিও সেটা সংখ্যার দিক থেকে অনেক কম। এছাড়াও র‍্যামের ব্যবহার আপনার সেল ফোন সিগনালেও লক্ষ করা যায়। সামনে যে ৫ জি ফোন গুল্যো আসছে তার জন্য আপনার ফোনের র‍্যাম অবশ্যয় বৃদ্ধি পাবে। বলতে পারেন র‍্যাম যত বেশি হবে আপনার জন্য তত ভাল। দিন যত বৃদ্ধি পাবে কম র‍্যামের ফোন গুলোকে বাতিল বলে গন্য করা হবে। তাই বেশি র‍্যামের ফোন কিনুন ও কিছু বছর নিশ্চিতে থাকুন। ফোনের RAM বাড়ানোর চিন্তা করেন না, কেননা শুধু মাত্র কম্পিউটারের র‍্যাম বাড়ানো যায়, ফোনের র‍্যাম না। যদিও কিছু এপস আছে RAM বাড়ানোর কিন্তু এইসব ধান্দা বাজি করে নিজের ফোনের গুষ্টি উদ্ধার করবেন না।

ড্রোন নিয়ে কিছু মজার প্রশ্ন ও উত্তর পর্বঃ১

শেষ কথা

র‍্যামের গুরুত্ব হয়তো বুঝতে পেরেছেন। তাই বলে রাখি বেশি RAM যুক্ত ফোন কিনুন। এতে আপনার ক্ষতি নাই বরং লাভের পাল্লা বেশি। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। র‍্যাম নিয়ে যা যা জানা আপনার প্রয়োজন তা জানানোর চেষ্টা করেছি। চেষ্টা করেছি র‍্যাম নিয়ে সকল ছোট ছোট বিষয় গুলো তুলে ধরবার।

Leave A Reply

Your email address will not be published.