র‍্যাটওয়্যার বা র‍্যাট কি

এথিক্যাল হ্যাকিংঃ র‍্যাটওয়্যার বা র‍্যাট কি : কিভাবে আক্রান্ত্র করানো হয়? – [বেসিক]

আপনি একটা হলিউড মুভি দেখছেন। একজন হ্যাকার এক কম্পিউটারের সকল ডাটা তার কম্পিউটারে নিয়ে নিচ্ছে। সে অন্যর কম্পিউটার তার ঘরে বসেই নিয়ত্রণ করছে। কি মজা তাই না? কিন্তু আপনাদের মাঝে কেও মন খারাপ করে বসে আছে , “ইস আমি যদি এই ভাবে কারো কম্পিউটার হ্যাক করতে পারতাম”। আবার কেও বা বসে বসে নিজের মনকে সাত্বনা দিচ্ছে,” হুহ, হ্যাক কি এতই সোজা নাকি? এটা একটা মুভি ব্রো, সো ঘুমাই।” আপনি যদি এই ২ টা ধারণার কোন একটা মনে পোষন করে থাকেন, তাহলে এই আর্টিকেল টা শুধুমাত্র আপনার জন্য।

 

বর্তমান যুগ টি হচ্ছে তথ্য ও প্রযুক্তির যুগ এখই আমরা প্রায় সকল ক্ষেত্রেই কম্পিউটারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পরেছি। তাছাড়া দিন যত বেড়ে চলছে আমাদের পার্সোনাল কম্পিউটারের সংখ্যাও তত বেড়ে চলেছে। আর ঠিক কম্পিউটারের জন্যই আমাদের জীবন টা আরো সহজ ও নিরাপদ হয়ে উঠেছে। কিন্তু আপনি যতটা নিজেকে সুরক্ষিত ভাবছেন বা নিরাপদ ভাবছেন আপনি কিন্তু আসলে ততটা সুরক্ষিত না।

আপনার নিজের অগোচরে আপনার কম্পিউটারে অনেক কিছু হয়ে যাচ্ছে কিন্তু আপনি বুঝতেও পারছেন না। আপনার কম্পিউটারটা আপনি ছাড়া অন্য কেও ব্যবহার করছে কিন্তু আপনি এই বিষয়ে কিছুই জানতে পারছেন না। তাহলে আপনি নিজেই ভাবুন আপনি নিজে কতটা সুরক্ষিত? আর ঠিক এই বিষয় নিয়েই আজকের এই আলোচনা। আজকে আমাদের এথিক্যাল হ্যাকিং এ আলোচনা করবো র‍্যাট ও র‍্যাটওয়্যার নিয়ে।

র‍্যাট কি

র‍্যাট শব্দটি যখনি আমরা শুনে থাকি আমাদের মাথায় আসে ইদুঁরের কথা। কেননা আমরা তো সারা জীবন জেনেই এসেছি র‍্যাট অর্থ ইদুঁর। কিন্তু এই র‍্যাট এর অর্থ ইদুঁর না। RAT বা র‍্যাট অর্থ হচ্ছে Remote Access Trojan বা Remote Access Tool বা Remote Admin Trojan/ Tool আসলে যে যেভাবে ব্যবহার করে আর কি। আপনি র‍্যাটকে এর যেকোন একটা বলেই ডাকতে পারেন। র‍্যাটে তা হচ্ছে এমন একটা প্রোগ্রাম যেটা আপনার কম্পিউটারে গিয়ে আপনার কম্পিউটারের যে Administration Power আছে সেটা নিয়ে নেই ও আপনি আপনার কম্পিউটারে যে যে কাজ করার ক্ষমতা পেয়ে থাকেন সেটা তখন র‍্যাট এর মাধ্যমে হ্যাকারের কাছেও চলে যায়। তাই হ্যাকার আপনার কম্পিউটারকে নিজের মত করে চালাতে পারে।

র‍্যাটওয়্যার কি?

র‍্যাটওয়্যার হচ্ছে র‍্যাট ব্যবহার করার জন্য একটা টুল যেটা প্রোফেশনাল স্পামারেরা ব্যবহার করে থাকে। এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে ভাই র‍্যাট চালানোর জন্য যদি কোন টুল লাগে তাহলে র‍্যাট কি? আসলে ভাই র‍্যাট কোন টুল না। এটা শুধু মাত্র একটা প্রোগ্রাম এটাকে আপনার কম্পিউটারে রান করার জন্য আলাদা ভাবে ইন্সটল করা লাগবে না।

বাইনারি সংখ্যা কি? আপনার কম্পিউটার কিভাবে বাইনারি সংখ্যা বুঝে থাকে?

র‍্যাট কিভাবে  কাজ করে ও এর উদ্দেশ্য

যখনই কোন বিষয় কি সেটা জেনে যাবেন তখনি আপনার মনে নতুন প্রশ্ন জেগে যাবে এটা কিভাবে কাজ করে? ঠিক তেমনি ভাবে আপনার মনেও প্রশ্ন জেগে গেছে  র‍্যাট কিভাবে কাজ করে? আসলে আমি আগেই বলেছি র‍্যাট কোন সফটওয়্যার না এটা শুধু একটা প্রোগ্রাম যেটা আপনার পিসি তে অনেক ভাবেই ঢুকে যেতে পারে। যেমন ধরুন আপনি কোন একটা সফটওয়্যার ইন্সটল দিয়েছেন সেটার মাঝে র‍্যাট প্রোগ্রাম দেয়া আছে এখন আপনার কম্পিউটার র‍্যাট দ্বারা আক্রান্ত হয়ে গেল। কিন্তু আপনি এটাকে দেখতে পারবেন না বা বুঝতে পারবেন না।

র‍্যাটওয়্যার বা র‍্যাট কি
র‍্যাটওয়্যার বা র‍্যাট কি

কেননা এটা কাজ করবে ব্যাকগ্রাউন্ডে. এটা মূলত কাজ করে ব্যাকডোর হিসেবে ঠিক এই কারণেই আপনি যদি সচেতন না হয়ে থাকেন তাহলে আপনি কোন ভাবেই বুঝতেই পারবেন না যে আপনি র‍্যাট দ্বারা আক্রান্ত। হ্যাকার তার নিজের কম্পিউটারে একটা র‍্যাটওয়্যার ইন্সটল দেয় ও নিজের কম্পিউটারে একটা পোর্ট ওপেন করে দেয়। র‍্যাট এর ভেতর এমন ভাবে প্রোগ্রাম করা থাকে যে, যখন ভিকটিমের পিসিতে এই র‍্যাট ঢুকে যাবে তখন ভিকিটিমের পিসিতে একটা পোর্ট ওপেন হবে। যেই পোর্টের মাধ্যমে হ্যাকার ভিকটিমের পিসি নিয়ত্রন করতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই পোর্ট হয় ২৫ অথবা ৪০ কিন্তু অনেক সময় এই পোর্ট ভিন্ন হয়ে থাকে।

আপনার মনে আসতে পারে এটা করার ফলে হ্যাকার কি লাভ পায়? আসলে এখানে হ্যাকারের অনেক লাভ থেকে থাকে। যেমন ধরুন আপনার পার্সোনাল ইনফোরমেশন হ্যাকার হাতিয়ে নেই, এছাড়াও অনেক কিছু। তাহলে আসুন দেখে নেই হ্যাকার দের উদ্দেশ্য কি থাকে এই র‍্যাট ব্যবহার করার।

  • ভিকটিমের পারসোনাল ইনফোরমেশন হাতিয়ে নেয়া।
  • বোটনেট এর সাথে যুক্ত করা ভিকটিমের কম্পিউটার কে।
  • ক্রেডিট কার্ড এর তথ্য হাতিয়ে নেয়া।
  • আপনার কম্পিউটার এ ভাইরাস ঢুকিয়ে দেয়া।
  • ভিকটিমের অনলাইন একাউন্ট গুলো ব্যবহার বা হ্যাক করাও এদের উদ্দেশ্যর মাঝে একটা।
  • এছাড়া সব থেকে বড় কথা ভিকটিমের কম্পিউটারের সকল এক্সেস নিজের করে নেয়াই এদের প্রধান উদ্দেশ্য।

ড্রোন কি? ড্রোন কিভাবে কাজ করে? বিস্তারিত জানুন

যে সকল পদ্ধতিতে র‍্যাট দ্বারা আক্রান্ত হতে পারেন

আসলে কিভাবে র‍্যাট দ্বারা আক্রান্ত হবেন সেটা নির্দিষ্ট করে কখনো বলা যাবে না। একজন স্পামার বা হ্যাকার আপনাকে অনেক ভাবে র‍্যাট দ্বারা আক্রান্ত করতে পারে। কিন্তু সব থেকে বড় কথা আপনার কম্পিউটারে র‍্যাট কিন্তু এমনিতেই আসবে না আপনাকে অবশ্যই এটা ডাউনলোড করতে হবে। এবার কথা হচ্ছে আপনি কিন্তু ডাউনলোড করছেন আবার আপনি কিন্তু ডাউনলোড করছেন না। বুঝেন নাই?

আসলে স্পামার এমন ভাবে আপনার সাথে চালাকি  করে আপনার কম্পিউটারে র‍্যাট ঢুকিয়ে দিবে আপনি বুঝতেও পারবেন না। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা ইমেইল স্পুফিং বা স্প্যাম মেইল করে ভিকটিমের পিসিতে এটা ঢুকিয়ে দেয়। এছাড়াও অনেক সফটওয়্যারের মাঝে র‍্যাট প্রোগ্রাম ঢুকিয়ে দিয়ে র‍্যাট দ্বারা ভিকটিমের পিসিকে আক্রান্ত করা হয়ে  থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন পিডিএফ বা ছবির মাঝেও এই র‍্যাট প্রোগ্রাম ঢুকিয়ে দেয়া হয়। তবে সব থেকে বেশি র‍্যাট প্রোগ্রাম ছড়ানো হয় ইমেইল স্পুফিং এর মাধ্যমে।

কিভাবে র‍্যাট থেকে সুরক্ষিত থাকবেন

যখনই সকল বিষয় গুলো বোঝা হয়ে  যায় তখনই সামনে আসে এর থেকে কিভাবে বাঁঁচা যেতে পারে। হ্যাঁঁ প্রতি বারের মত এবারো আলোচনা আপনি কিভাবে এর থেকে মুক্ত থাকবেন। আসল কথা হচ্ছে র‍্যাট থেকে বাঁচার উপায় খুব কম আমাদের হাতে। যদি না আমরা সচেতন হতে পারি আমরা র‍্যাট থেকে রক্ষা পাবো না। কেননা এখানে যতটা না প্রোগ্রামিং থাকে তার থেকে বেশি থাকে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। হ্যাকার বা স্পামার আপনাকে ভুল বুঝিয়ে কোন কিছু ডাউনলোড করে দিবে, তাই নিজেকে সব সময় সচেতন থাকতে হবে। তাহলে আসুন দেখে নেই কিভাবে আপনি র‍্যাট থেকে রক্ষা পাবেন।

  • সন্দেহজনক কোন ইমেইল ওপেন করবেন না, কেননা স্প্যাম ইমেইলের মাধ্যমেই সব থেকে বেশি র‍্যাট ছড়ানো হয়ে থাকে।
  • নিজের এন্ট্রি ভাইরাস সবসময় আপডেট রাখুন, কেননা এট্রি ভাইরাস ছাড়া র‍্যাট ডিটেক্ট করা অনেক কঠিন একটা কাজ।
  • অফিশিয়াল সাইট ছাড়া ও নির্ভর যোগ্য সাইট ছাড়া অন্য কোথাও থেকে ডাউনলোড করবেন না।
  • নির্দষ্ট সময় পর পর নিজের পিসিকে স্ক্যান করুন।
  • আপডেট র‍্যাট গুলো অনেক সময় আপনার এন্ট্রি ভাইরাস ধরতে পারে না, তাই টাস্ক ম্যানেজার থেকে দেখে নিবেন আপনার পিসিতে আসলে কি কি চলছে।যদি কোন কিছু ভুল মনে হয় সাথে সাথে কিল করে দিন।
  • ডাউনলোড করা ফাইল কে স্ক্যান করে নিবেন যদি আপনার মনের মাঝে কোন ধরনের সন্দেহ থেকে থাকে।

মোটা-মুটি ভাবে বলা যায় আপনি এই বিষয়গুলো লক্ষ রেখে যদি পিসি ব্যবহার করেন তাহলে বলা যেতে পারে আপনি অনেক খানি সুরক্ষিত থাকবেন।

নতুন ভয়ের নাম ক্লিপার ম্যালওয়্যার, আপনার এন্ড্রোয়েড ফোনটি কি সুরক্ষিত?

র‍্যাট টুল দিয়ে কি কি করা যেতে পারে

আগেই বলেছি র‍্যাট টুল দিয়ে সম্পূর্ন কম্পিউটার টাকেই চালানো যেতে পারে নিজের মত করে। আপনাদের সুবিধার জন্য আমি এখন একটা QuasarRAT নামে একটা র‍্যাট টুল কে দেখাবো। পরের কোন এক আর্টিকেলে কিছু র‍্যাট টুল কিভাবে ইন্সটল দিবেন, ব্যবহার করেন সেই নিয়ে আলোচনা করবো আমরা।

র‍্যাটওয়্যার বা র‍্যাট কি
র‍্যাটওয়্যার বা র‍্যাট কি

QuasarRAT এই টুল টা উইন্ডোজ কম্পিউটারে ব্যবহার করা যায় ও আমার কাছে এই টুল টা খুব ভাল লেগেছে। বিশেষ করে এর ইন্টারফেস টা খুব সুন্দর ও কোন ঝামেলা নেই এটার মাঝে। ফাইল ম্যানেজার, স্টার্টআপ মেনু, রিমোট শেল , টিসিপি কানেকশন সকল কিছু খুব সহজেই ব্যবহার করা যায়।

এছাড়াও এটাতে খুব সহজে ভিকটিম পিসি অফ করে দেয়া যায়, রিস্টার্ট করে দেয়া যায়। এর জন্য আলাদা করে কোন কমান্ড বা কোড টাইপ করা লাগে না।

র‍্যাটওয়্যার বা র‍্যাট কি
র‍্যাটওয়্যার বা র‍্যাট কি

এছাড়াও ১ ক্লিকে রিমোট ওয়েব ক্যামেরা, রিমোট ডেস্কটপ ভিউ, কি-লগার সেন্ড, পাসওয়ার্ড চুরি করে নেয়া যায়।

র‍্যাটওয়্যার বা র‍্যাট কি
র‍্যাটওয়্যার বা র‍্যাট কি

এই র‍্যাট টুল টা দিয়ে বিভিন্ন ডাইরেক্টোরিতে খুব সহজে ঘুরে বেড়ানো যায়। যেকোন ফোল্ডারের ফাইল গুলো দেখা যায় ও ডাউনলোড করা যায়।

র‍্যাটওয়্যার বা র‍্যাট কি
র‍্যাটওয়্যার বা র‍্যাট কি
র‍্যাটওয়্যার বা র‍্যাট কি
র‍্যাটওয়্যার বা র‍্যাট কি

আশা করি আপনার মাঝে র‍্যাট টুল নিয়ে মোটা-মুটি ধারণা চলে এসেছে। এটার কাজ নিয়ে ধারণা চলে এসেছে। এটা শুধু একটা ওভারভিউ ছিল মাত্র।

আশা করি আপনার কাছে ভাল লেগেছে। আমাদের কাজ সহজ ও সুন্দর ভাবে আমাদের নিজেদের জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করা। সাথে বাংলা ভাষাকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তোলা।

 

Sayed.Pappu

Add comment