তথ্য জানার সহজ মাধ্যোম

ম্যাক এড্রেস কি? এটি কেন প্রয়োজন? জেনে নিন ম্যাক এড্রেস বের করার নিয়ম।

ম্যাক এড্রেস
ম্যাক এড্রেস
ম্যাক এড্রেস

ম্যাক এড্রেস সম্পর্কে ইতিপূর্বে কোন ধারণা আছে কি? অনেকের উত্তর্‌ই হয়ত হবে, “না’. আসুন এই ব্যাপারে কিছু তথ্য জেনে নেওয়া যাকঃ

ম্যাক এড্রেস কি?

ম্যাক এড্রেস এর সম্পূর্ণ ইংরেজী প্রতি রূপ হলো,  Media Access Control Address বা MAC Address. কোন কম্পিউটারের ম্যাক এড্রেস হচ্ছে সেই কম্পিউটারটিতে ব্যবহার্য নেটওয়ার্ক ডিভাইসটির জন্য একটি বিশেষ পরিচিতি যেটা মূলত কম্পিউটারটিকে তার শারীরীকভাবে পরিচিতি প্রদান করে থাকে। এটি হলো প্রতিটি নেটওয়ার্ক ইন্টারফেসের ইউনিক আইডি। ম্যাক এড্রেসের মাধ্যমেই প্রতিটি নেটওয়ার্ক ইন্টারফেসকে আলাদা আলাদা করে চেনা যায়। কোন ডিভাইসের ম্যাক এড্রেস সাধারণত তার তৈরীকারী প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করে থাকে। প্রস্তুতকারক কোম্পানি তাদের কোম্পানির আইডি,ডিভাইস এর কোডনেম ইত্যাদি অনুসারে ম্যাক এড্রেস তৈরী করে থাকে।

প্রত্যেকটি নেটওয়ার্ক ডিভাইসের জন্য আলাদা আলাদা ভাবে ম্যাক এড্রেস থাকে। সারা বিশ্বের বিভিন্ন ডিভাইসের সংখ্যা যেহেতু অগণিততাই ম্যাক অ্যাড্রেস ১২ ডিজিটের হেক্সাডেসিমাল নাম্বার হয় এবং তা জোড়ায় জোড়ায় কোলন দিয়ে আলাদা করে লেখা হয়। যেমন, xx:xx:xx:xx:xx:xx  (x লিখা অংশ গুলোতে ম্যাক এড্রেস হবে). ৬টি ভাগে এভাবে ১২টি হেক্সাডেসিমেলে লেখা হয়। দুইটি ডিজিট এবং তারপর একটি কোলন দিয়ে লিখা হয়।

ম্যাক এড্রেস বের করার নিয়মঃ
ম্যাক এড্রেস বের করার নিয়মঃ

ম্যাক এড্রেস বের করার নিয়মঃ 

সাধারনত কোন কোন ডিভাইসের ম্যানুয়েলে ম্যাক এড্রেস দেয়া থাকে। আবার কিছু কিছু ডিভাইসের পিছন দিকে সিরিয়ালের সাথে ম্যাক এড্রেস দেয়া থাকে।
তবে আমরা অন্য একটি উপায়ে কম্পিউটারে সংযোগকৃত ডিভাইসটির ম্যাক এড্রেস জানতে পারি। কিন্তু,এটা একেক রকম অপারেটিং সিস্টেমের জন্য একেক রকম।

উইন্ডোজ ৭ :

  • Start এর Search Programs & Files এর সার্চ বক্সে লিখুন, “Network and Sharing Center”
  • এবার কাঙ্খিত রেজাল্টে ক্লিক করুন।
  • এবার বাম দিক থেকে- Change Adapter Settings সিলেক্ট করুন।
  • আপনি যে কানেকশানটির ম্যাক এড্রেস বের করতে চান সেটিতে মাউসের ডান বোতাম চাপুন এবং Properties এ যান।
  • সেখানে Connect Using এর নিচে টেক্স বক্সে মাউস রাখলেই আপনাকে ঐ ডিভাইসটির ম্যাক এড্রেস দেখতে পাবেন।

উইন্ডোজ এক্সপি :

  • প্রথমে Start বাটনে ক্লিক করুন।
  • এরপর Control panel >Classic View->Network Connections এ যান।
  • আপনি যে কানেকশানটির ম্যাক এড্রেস বের করতে  চায়ছেন সেটিতে মাউসের ডান বোতাম চাপুন এবং Properties এ যান।
  • সেখানে Connect Using এর নিচে টেক্স বক্সে মাউস রাখলেই আপনাকে ঐ ডিভাইসটির ম্যাক এড্রেস দেখা যাবে।

লিনাক্স:

  • লিনাক্সের জন্যে privileged terminal session এ লিখুন ifconfig।
  • এই কমান্ডটির মাধ্যমে, আপনার কম্পিউটারে কি কি নেটওয়ার্ক ডিভাইস ইন্সটল অবস্থায় আছে সেগুলো দেখতে পাবেন।
  •  সাধারনত এখানে HWaddr নামে ম্যাক এড্রেসটি রেফার করা থাকে।

উইন্ডোজ ভিসতা: 

  • Start এর Search Programs & Files এর সার্চ বক্সে লিখুন, “Network and Sharing Center”
  • এবার বাম দিক থেকে Manage Network Connections অপশন টি   সিলেক্ট করুন।
  • আপনি যে কানেকশানটির ম্যাক এড্রেস বের করতে চান সেটিতে মাউসের ডান বোতাম চাপুন এবং Properties এ যান।
  • সেখানে Connect Using এর নিচে টেক্স বক্সে মাউস রাখলেই আপনাকে ঐ ডিভাইসটির ম্যাক এড্রেস দেখতে পাবেন।

তবে উল্লেখ্য ব্যাপার হলো,আপনি যদি গ্রামীনফোন/বাংলালিংক বা সিটিসেল মডেম ব্যবহার করেন তাহলে এসব পদ্ধতি গুলোতে কাজ নাও হতে পারে।  তবে সেক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কাজে লাগান,

  • প্রথমে আপনি আপনার মডেমটিতে নেট কানেকশন দিন।
  • এবার Start>Run.
  • Run এর বক্সে লিখুন cmd এবং এন্টার চাপুন।
  • কমান্ড উইন্ডো খুললে সেখানে লিখুন, ipconfig /all.
  • এরপর আপনি অনেক গুলো তথ্য দেখতে পাবেন।
  • সেখানে Ethernet Adapter Local Area Connection লেখাটি  কোথায় আছে সেটা খুঁজে বের করুন।
  • এবার এখানে Physical Address এর সামনে ১২ ডিজিটের সংখ্যা ও অক্ষরের সমন্বয়ে যে সিরিয়ারটি দেখতে পাচ্ছেন সেটিই মূলত   আপনার ম্যাক এড্রেস।

ম্যাক এড্রেসের প্রয়োজনীয়তা কি? 

ডিভাইস এর সাথে নেটওয়ার্কের যোগাযোগ মূলত ম্যাক এড্রেসের মাধ্যমেই হয়। এটি নেটওয়ার্কের প্রোটোকল হিসেবে ব্যবহার করা যায় আবার সেই প্রোটোকলটি ভাঙ্গার কাজেও ব্যবহার করা যায়। আবার অনেক সময় হ্যাকিং কিংবা অনলাইনে অনৈতিক কোন  কাজ করতে গেলে ম্যাক এড্রেস পরিবর্তন করা প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে। অনেক নেটওয়ার্কে সিকিউরিটি প্রোটোকল হিসাবে ম্যাক অ্যাড্রেস ফিল্টার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর ফলে সেই নেটওয়ার্কে শুধু মাত্র সেই সব ডিভাইস সংযুক্ত হতে পারে যে সব ডিভাইস সমূহের ম্যাক অ্যাড্রেস উক্ত নেটওয়ার্কের ফিল্টার লিস্টে থাকে। অনেক ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডর আছে,যারা ম্যাক অ্যাড্রেস এর ভিত্তিতে ইন্টারনেট কানেকশন সরবারহ করে থাকে।

ম্যাক এড্রেস কি পরিবর্তন করা যায়?
ম্যাক এড্রেস কি পরিবর্তন করা যায়?

ম্যাক এড্রেস কি পরিবর্তন করা যায়?

আমরা আগেই জেনেছি , কোন ডিভাইসের ম্যাক এড্রেস সাধারণত তার তৈরীকারী প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করে থাকে। প্রস্তুতকারক কোম্পানি তাদের কোম্পানির আইডি,ডিভাইস এর কোডনেম ইত্যাদি অনুসারে ম্যাক এড্রেস তৈরী করে থাকে। তাই কিছু কিছু  ডিভাইসের ম্যাক এড্রেস পরিবর্তন করা যায় না।আর গেলেও সেটাতে  কাজ হয় না। কারণ কম্পিউটার রিস্টার্ট দেবার সাথে সাথেই আবার এটি তার আগের ম্যাক এড্রেস ফির’এ পায়। কিন্তু অনেক সময় বিভিন্ন অনাকাংখিত কারণে ম্যাক এড্রেস পরিবর্তন করার প্রয়োজন পড়ে। কেননা হ্যাকার’রা ডস অ্যাটাকের জন্য অন্যের ম্যাক এড্রেস স্পুফিং করে  ট্রাফিক বাড়ায়। তাই ম্যাক এড্রেস পরিবর্তন করার দরকার হয়। আর  এই এড্রেস  পরিবর্তন করাকে ‘ম্যাক স্পুফিং’ বলা হয়। চলুন দেখে নেওয়া যাক কিভাবে ম্যাক এড্রেস পরিবর্তন করা যায়ঃ

ঊইন্ডোজ এক্সপির ক্ষেত্রে, 

  1. প্রথমে Start বাটন চাপুন।
  2. এরপর Control Panel এ যান।
  3. Network Connections  গেলে আপনি  Network and Internet Connection এর মধ্যে কয়েকটি নেট্‌ওয়ার্ক Connection দেখতে পাবেন।
  4. এই Connection গুলোর মধ্যে যে কানেকশন’টিকে আপনি একটিভ অবস্থায় পাবেন সেটি’তে  মাউসের ডান বাটন চেপে Properties এ যান।
  5. এবার General ট্যাবের অন্তর্গত Configure এ Click করুন।
  6. Advanced এ গিয়ে Property সেকশনে সিলেক্ট করে Network Address অথবা Locally Administered Address হাইলাইট করুন।
  7. ডান দিকে খেয়াল করলে দেখতে পাবেন ডিফল্ট হিসেবে Not Present সিলেক্ট করা  আছে।
  8. এড্রেস পরিবর্তন করতে এবার আপনি Value এর উপরের Radio বাটনটি Select করে নতুন ম্যাক এড্রেস বসিয়ে দিন।
  9. এবার আপনি OK ক্লিক করে বেরিয়ে আসতে পারেন।

উইন্ডোজ ভিসতা এবং উইন্ডোজ সেভেনের ক্ষেত্রে, 

  1. Start এর সার্চ বক্সে, টাইপ করুন Network and Sharing Center.
  2. তারপর উপরের রেজাল্টের উপর Click করুন।
  3. এরপর Manage Network Connections অথবা Change Adapter Settings এ যান।
  4. Active Connection এর  প্রোপার্টিসে যান।
  5. উপরক্তো ৫ থেকে ৯ নং অপশন গুলো ফলো করুন।

[বিঃদ্রঃ এই নিয়ম শুধু  Windows এর ক্ষেত্রে কাজ করবে।] 

এবার এড্রেস পরিবর্তন হয়েছে কি-না তা দেখার জন্য, পূর্বের “ম্যাক এড্রেস বের করার নিয়মঃ” এর দেওয়া অপশন গুলো অনুযায়ী কাজ করুন।

IP এড্রেস এবং ম্যাক এড্রেসের মধ্যে পার্থক্য কি?

আইপি এড্রেস হচ্ছে কোন কম্পিউটারের অ্যাড্রেস বা ঠিকানা যার মাধ্যমে অন্য’রা একটি নির্দিষ্ট কম্পিউটারকে চিনতে পারে। এটাকে ফোন নম্বরের সাথেও তুলনা করা চলে। তবে এই আই,পি এড্রেস পরিবর্তন করা যায় না। আর ম্যাক এড্রেস হচ্ছে কোন নেটওয়ার্ক ডিভাইসের জন্য একটি ইউনিক শনাক্তকারী নাম্বার। ম্যাক এড্রেস মূলত হেক্সাডেসিমাল ফরম্যাটে থাকে। ম্যাক এড্রেসের প্রথম অর্ধেক অংশ দ্বারা বুঝায় ডিভাইসটি কোন মডেলবা ব্রান্ডের আর বাকী অর্ধেক অংশটি হচ্ছে ঐ ডিভাইসটি unique নাম্বার। এটাকে মোবাইলের আই,এম,আই,ই নম্বর অথবা গাড়ির ভি,আই,এন নম্বরের সাথে তুলনা করা যেতে পারে।

আর্টিক্যাল টি পরার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।আশা করি নতুন কিছু শিখতে পেরেছেন যা আপনার জ্ঞান বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।
আমাদের সাথেই থাকুন এবং নতুন নতুন বিষয়ে জানুন।
ধন্যবাদ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Close