বেসিক কম্পিউটার নিরাপত্তাঃ কিভাবে ভাইরাস, হ্যাকার এবং চোর থেকে নিজের কম্পিউটারকে রক্ষা করবেন?

বেসিক কম্পিউটার নিরাপত্তাঃ কিভাবে ভাইরাস, হ্যাকার এবং চোর থেকে নিজের কম্পিউটারকে রক্ষা করবেন?

বেসিক কম্পিউটার নিরাপত্তাঃ কিভাবে ভাইরাস, হ্যাকার এবং চোর থেকে নিজের কম্পিউটারকে রক্ষা করবেন?  

মানুষ প্রায়ই কম্পিউটার এর নিরাপত্তা সমস্যা-ই ভোগে। হ্যাকার বা ভাইরাসের টিজিংয়ের কারণে জীবন অসহনীয় হয়ে ওঠে। কম্পিউটারকে সুরক্ষিত রাখার কিছু বেসিক কম্পিউটার নিরাপত্তাঃ সংক্রান্ত  মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই পোষ্টে তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো অনুসরণ করে, আপনি সহজে আপনার কম্পিউটার রক্ষা করতে পারেন। আপনি আগে থেকে না জেনে থাকলে এগুলো সম্পর্কে আপনার অবশ্যই জানা উচিৎ যদি আপনার কম্পিউটার কে নিরাপদ রাখতে চান। আশা করি, এটি আপনার জন্য সহায়ক হবে। চলুন বিস্তারিত আলচোনা করা যাকঃ

একটি ভাল অ্যান্টিভাইরাস সফ্টওয়্যার ব্যবহার করুন:

কম্পিউটারের নিরাপত্তার জন্য আপনার একটি ভাল এবং বিশ্বস্ত অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা উচিত। যদিও, কোন অ্যান্টিভাইরাস ১০০% নিরাপত্তার জন্য গ্যারান্টি দেয় না, তবে এটি এর সম্ভাবনা দ্বারা আপনার ডিভাইস অনেকটাই রক্ষা করতে পারে। কম্পিউটার যতদিন চলবে এবং অস্তিত্ব থাকবে ততদিন ইন্টারনেটে সংযুক্ত হোক বা- না হোক, অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারের সর্বদা প্রয়োজন হবে।
অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার হল এক ধরনের প্রোগ্রাম যা আপনার কম্পিউটারকে বেশিরভাগ ভাইরাস, কীট এবং অন্যান্য অবাঞ্ছিত আক্রমনের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে এবং আপনার কম্পিউটারকে অসুস্থ করে তুলতে পারে এমন সব সমস্যা সম্পর্কে সচেতন করে দেয়। এন্টিভাইরাস এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। সাইবার আক্রমণের প্রতিটি ধরণের অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারের সাহায্যে প্রতিরোধ করা যায় না, তবে কম্পিউটারে অনুপ্রবেশের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করার সময় এটি একটি দুর্দান্ত সম্পদ হতে পারে।

অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার কেবল এমন কম্পিউটারের জন্য নয় যেগুলোকে কেবল ইন্টারনেট বা ওয়েব থেকে আক্রমণ করা হয়। ভাইরাস পোর্টেবল স্টোরেজ ড্রাইভ বা মেমরি চিপ কার্ডগুলির মাধ্যমে ছড়াতে পারে। ধারণা করা যায় যে, একজন ব্যক্তি কোনও ডিভাইসকে একটি লাইব্রেরিতে কম্পিউটারে প্লাগ করতে পারেন, তারপর কোনও অনলাইন সুবিধা ছাড়াই কম্পিউটারটিকে হোমে আনতে পারেন এবং এই ধরণের কোনও ম্যালওয়ার ছড়িয়ে দিতে পারেন। অ্যান্টিভাইরাস আপনাকে এইগুলি থেকে রক্ষা করতে পারে। অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার সনাক্ত করতে পারে যখন একটি ডিভাইস স্পাইওয়্যার দ্বারা সংক্রামিত হয়ে থাকে, যেটি ব্যবহার করা তথ্যের তথ্য সংগ্রহ বা চুরি করার জন্য, এমনকি যখন উৎসটি একটি সম্মানজনক, বৈধ উৎস থেকে এসেছে তখন তাও বুঝিয়ে বা সনাক্ত করে দেয়। অধিকন্তু, এটি ভাইরাস, ম্যালওয়্যার, বা সাইবার-এট্রাক ক্রাস করার আগে ত্রুটি সনাক্ত করতে পারে।

আপনার ডিভাইসে অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করার আগে মনে রাখবেন প্রথমে, নিশ্চিত করুন যে আপনি যে অ্যান্টিভাইরাসটি ইনস্টল করতে যাচ্ছেন তা হল ভাল মানের, ভাল ক্ষমতা, লাইসেন্স এবং স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান দ্বারা তৈরি। যদি আপনি নিরাপদ মনে করেন, তাহলে অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করুন এবং আপনার কম্পিউটারটি আরামে ব্যবহার করুন।

অটোমেটিক আপডেট গুলো এনাবল করে রাখুনঃ 

আমরা সাধারণত যে সব সফট্‌ওয়ার গুলো ব্যবহার করি, সেগুলো নিরাপত্তা সমস্যার সাথে সম্পর্কযুক্ত। এই নিরাপত্তা বিষয়গুলি ক্রমাগতভাবে পাওয়া যায়, উইন্ডোজ, মাইক্রোসফ্ট অফিস, অ্যাডোব ফ্ল্যাশ প্লাগইন / রিডার, মোজিলা ফায়ারফক্স, ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, গুগল ক্রোম ইত্যাদি।
বর্তমানে অনেক অপারেটিং সিস্টেম এবং প্রোগ্রাম, তাদের নিরাপত্তাহীণতার গর্ত গুলো বন্ধ করতে অনবরত নতুন নতুন আপডেট নিয়ে আসছে। আপনি আপনার সফ্টওয়্যার আপডেট করার জন্য কোন বোতাম ক্লিক বা একটি ফাইল ডাউনলোড করার কোন প্রয়োজন নেই। এটি আপনার কাছ থেকে কোনো ইনপুট ছাড়া পটভূমিতে নিজেই আপডেট হবে।

অনেক ব্যবহারকারী রয়েছে, যারা তাদের অটোমেটিক আপডেট অপশন টা বন্ধ করে রাখে, যাতে নতুন আপডেট আসলে সেটা অটোমেটিকভাবে আপডেট না নেই। এটা করে মূলত, ইন্টারনেট খরচ বাঁচাতে। কারণ, কিছু কিছু আপডেট আছে, যে গুলোতে যথেষ্ট বেশি এম,বি খরচ হয়।
কিন্তু, নতুন আপডেট আসলে তা গ্রহন করা উচিৎ! কারণ, নতুন আপডেট গুলো সবসময় পুরনো আপডেট এর তুলনায় উন্নত এবং ভাল হয়। এছাড়া, সিস্টেম তাদের পুরনো সংস্করনের সমস্যা গুলো চিনহিত করে, তারপর সমাধান করে নতুন সংস্করণ বের করে। সেই সাথে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা গুলোর ক্ষেত্রেও কার্যকরি হয়। তাই আপডেট অন করে রাখা উচিৎ.

একটি ভাল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন, এবং তাদের স্বয়ংক্রিয় করুন:

আপনি হয়তো জানেন যে পাসওয়ার্ডগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না কিভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাসওয়ার্ডগুলি! বেশিরভাগ লোক-ই দেখা যায় যে, তারা সাধারন এবং সহজ কোন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে। উদাহরণ স্বরুপ, অনেকে তাদের নাম সরাসরি ব্যবহার করে পাস্‌ওয়ার্ড হিসেবে। আবার কেউ কেউ (১২৩৪৫৬৭৮….) এর মত অতি-সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে। যার কারণে, তাদের সিকিউরিটি ভেঙ্গে প্রবেশ করা পানির মত সহজ হয়ে যায়।

আবার অনেকেই আছেন, যার এক্‌ই পাস্‌ওয়ার্ড সব জায়গাতে ব্যবহার করেন, ফলে কেউ যদি তার এক জায়গার পাসওয়ার্ড জেনে যায় তবে অন্যান্ন জায়গা গুলোর সেট করে রাখা পাসওয়ার্ড এর ব্যপারেও অবগত হয়ে যায়। এতে সে যথেষ্ট বিপদে পরতে পারে। এবং হ্যাকাররা সংরক্ষিত তথ্য চুরি করে নিতে পারে।
যেমন ধরুন, আপনার ফেসবুক পাসওয়ার্ড হলো,  (101001) আবার আপনার এ,টি,এম বুথের কিংবা বিকাশ বা অন্য কোন একাউন্টের পাস্‌ওয়ার্ড্‌ও (101001) এক্‌ই রকম। তবে কেউ যদি আপনার ফেসবুকের পাস্‌ওয়ার্ড জেনে যায় তবে সে আপনার বুথের পাস্‌ওয়ার্ড্‌ও জেনে যাবে। এবং তার ফলাফল কি হতে পারে তা নিশ্চয় আমাকে আর ভেঙ্গে বলে দেওয়া লাগবে না?(!!)

অতএব, নিজের পাসওয়ার্ড  এর ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। আপনার একটি দীর্ঘ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত। পাসওয়ার্ড-এ, সংখা, এলফাবেট, সিম্বল সবকিছুই রাখুন এবং আলাদা আলাদা জায়গাতে আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। আপনার তথ্য নিরাপদ রাখতে এটি একটি সহজ, সবচেয়ে ব্যবহারযোগ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ উপায়। মনে, রাখবেন আপনার ভাল পাসওয়ার্ড আপনাকে ৭০% সুরক্ষা দিতে পারবে।

কোন প্রোগ্রাম ডাউনলোড এবং রান করার সময় সতর্ক থাকুনঃ 

সাধারণত উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ত্রুটিপূর্ণভাবে ডাউনলোড বা খারাপ বা অজানা সফ্টওয়্যার ইনস্টল করার ফলে ম্যালওয়ার দ্বারা আক্রান্ত হয়। সুতরাং আপনার ডাউনলোড এবং চালানো প্রোগ্রামগুলি সম্পর্কে সর্বদা সতর্ক থাকুন এবং সচেতন থাকুন।
কেবলমাত্র আপনার এমন সফ্টওয়্যার ডাউনলোড এবং রান করা উচিৎ যা ব্যাপকভাবে পরিচিত এবং নির্ভরযোগ্য, অথবা কোনও নির্ভরযোগ্য সাইট দ্বারা প্রস্তাবিত। ডাউনলোড করার আগে নিশ্চিৎ করে নিন আপনি প্রোগ্রাম বা সফট্‌ওয়ার টি তার অফিসিয়াল ওয়েব সাইট থেকে ডাউনলোড করছেন নাকি অন্য কোন অজানা সাইট থেকে ডাউনলোড করছেন। কারণ হ্যাকাররা বিভিন্ন সাইটগুলিতে তাদের ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে রাখে। এটা তাদের সবচেয়ে সহজ উপায়। আর আপনি না জেনে সেই ফাঁদে পা দেন এবং বিপদে পড়েন।

যখন আপনি কোনও সফটওয়্যার ডাউনলোড করেন, ‘ডাউনলোড’ লিংকগুলির মত ছদ্মবেশন বিজ্ঞাপন ব্যানারগুলির জন্য সতর্ক থাকুন যা আপনাকে অন্য কোথাও নিয়ে যাবে এবং আপনাকে সম্ভাব্য দূষিত সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করার চেষ্টা করাবে।
যেমন ধরুন, আপনি একটা গেইম ডাউনলোড করবেন। তো এই জন্য গুগোলে সার্চ দিলেন গেইম এর নাম লিখে। গুগোল এতে বেশ কিছু সাজেশন দিবে। আপনি ইচ্ছে মত একটি সাইট এ ঢুকে গেলেন। সেখানে ‘ডাউনলোড’ বাটনের সাথে আরো কয়েকটি ‘ডাউনলোড’ লিখা ব্যানার দেখতে পেলেন। এবং কৌতূহল বসত ক্লিক করে বসলেন! এতে করে এটি আপনাকে অন্য একটি সাইট এ নিয়ে যাবে এবং কিছু একটা ডাউনলোড করার নির্দেশ দিবে। আপনি গেইম ভেবে ডাউনলোড করলেন। এরপর সেটি ইনস্টল করে রান করার সাথে সাথেই আপনার পি,সি’র সমস্ত ইনফর্মেশন হ্যাকারের কাছে চলে যাবে। কারণ, আপনি ভুল বসত তাদের ফাঁদে পা দিয়ে ম্যাল্‌ওয়ার ডাউনলোড করে ফেলেছেন।
সূতরাং, এমন কোন সফট্‌ওয়ার ডাউনলোড করবেন না, যেগুলোর ব্যাপারে আপনি ভালভাবে কিছু জানেন না। আর সবসময়, অফিসিয়াল সাইট বা ট্রাস্টেড কোন সাইট থেকে ডাউনলোড করবেন। এতে আপনি নিরাপদ থাকতে পারবেন।

আপনার অবর্তমানে,আপনার ডিভাইস কার্‌ও কাছে রেখে যাবেন না। 

এমনটা প্রায়ই দেখা যায় যে, আপনি আপনার ডিভাইসটি অন্যের কাছে ছেড়ে যান এবং বাইরে চলে যান যান। এটা হতে পারে, আপনার বন্ধু, অফিস সহকর্মী বা অন্য কেউ। কিন্তু, এটি করা একদম উচিচৎ নয়। যার কাছে আপনার ডিভাইস টি রেখে যাচ্ছেন, সে ইচ্ছে করলে সহজেই আপনার তথ্য বা ডাটা চুরি করে নিতে পারে। আর এটি আপনার সমস্ত ডেটা পেতে সামান্য-বেশি-মৌলিক কম্পিউটার জ্ঞান থাঅলেই চলবে ,কারন সয়ং আপনার ডিভাইস টি তার হাতেই রয়েছে।  উপরন্তু, একটি চিপ বা মেমরি কার্ড দিয়ে, আপনার কম্পিউটার ভাইরাস বা ম্যালওয়ার সন্নিবেশ করিয়ে দিতে পারে খুব সহজেই। যা আপনার ডিভাইসের প্রোগ্রাম ধ্বংস করতে পারে। এবং পরিশেষে যার ফল আপনাকেই ভোগ করা লাগবে। তাই সচেতন থাকুন তাদের ব্যাপারে।

ইমেইল এবং পপআপ বিজ্ঞপ্তিতে আসা লিঙ্কগুলি সম্পর্কে সচেতন থাকুনঃ 

আপনি যেসব লোককে জানেন না তাদের ইমেইলগুলি খোলার উচিত নয় এবং এমন ইমেলগুলির লিঙ্কগুলিতে ক্লিক করবেন না যা অজানা এবং আপনি বিশ্বাস করেন না। আপনি কি মনে করেন, এতটুকুই যথেষ্ট? না! এতটুকুই যথেষ্ট না! কারণ, বেশিরভাগ সময়, দূষিত লিঙ্কগুলি এমন বন্ধুদের থেকে আসতে পারে যেগুলি সংক্রামিত হয়েছে, বা এমন ইমেলগুলি থেকে যা বৈধ বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু এই লিঙ্ক গুলি আসলে আসলে নকল। আপনি যদি সত্যিই নিরাপদ হতে চান, ইমেলগুলিতে লিঙ্কে ক্লিক না করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

আমরা রোজ কতরকমের্‌ই তো সাইট ঘুরাঘুরি করি। অনেক সময় এমনটা দেখা যায় যে, ওয়েবসাইট আপনাকে এই মত বলে, Flash is out of date, Chrome needs to be updated, or a plugin needs to be added, pump your brakes, প্রভৃতি ধরনের পপ-আপ নোটিফিকেশন দেখা যায়। কিন্তু, আসলে ওগুলো ফেইক হতে পারে। মনে রাখবেন, আক্রমণকারীর খুব সূক্ষ একটি চাল এটি আপনাকে তাদের ম্যাল্‌ওয়ার বা ভাইরাস ইনস্টল করানোর। হ্যাকাররা এই পপআপ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ম্যালওয়ার ছড়ায়। আপনি পপ-আপ নিরাপদ মনে না করলে অবশ্যই এগুলোর থেকে দূরে থাকুন।

সুতরাং, আমি আশা করি আপনি আজকের আর্টিক্যাল টি পছন্দ করেছেন। এবং এটি আপনার জন্য কিছুটা হলেও শিক্ষামূলক হবে। এই টীপ্স গুলো ফলো করলে আশা করা যায় আপনি অর্থাৎ আপনার ডিভাইস নিরাপদ রাখতে পারবেন। পরবর্তিতে আবার্‌ও কোন নতুন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। আমাদের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।

আর্‌ও পড়ুনঃ 

 

Rubayed Drishty

Add comment