তথ্য জানার সহজ মাধ্যোম

টাইম মেশিন ও ট্রাইম ট্রাভেলিং । সময়কে জয় করার যন্ত্র ।

টাইম মেশিন
মাঝে মাঝে আমাদের সবার ই এমন মনে হয় যে যদি সমইয়কে পিছিয়ে নিয়ে  যেতে পারতাম বা ভবিষ্যত এ কি ঘটবে তা সময় এর আগে গিয়ে জানতে পারতাম । আর এই চিন্তা চেতনা থেকে আমাদের মাথায় সবার প্রথমে যে বিষয়টা মনে হয় তা হল টাইম মেশিন ও টাইম ট্রাভেলিং  । আমরা জীবনে অন্তত একবার হলেও  টাইম মেশিন শব্দটা শুনেছি। কিন্তু বাস্তবে এর অস্তিত্ত্ব এবং এর যাবতীয় বিষয় সস্পর্কে খুব একটা অধিকাংশ মানুষই জানে না  । যেহেতু টাইম ট্রাভেলিং আর টাইম মেশিন শব্দ গুলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অন্যতম কঠিন কিছু ট্রামস এর মাঝে পড়ে তাই এর ব্যাপারে বাংলা ভাষায় বিস্তারিত খুব কম ই লেখা হয়েছে  । আজকের এই লেখার মুল উদ্দেশ্যই হল জটিল টাইম মেশিন ও টাইম ট্রাভেলিং এর ব্যাপার গুলো আপনার সামনে অনেক সহজ ভাবে উপস্থাপন করা ।
তাহলে চলুন আর বেশি কথা না বলে মুল পর্বে চলে যাই ।

সময় কাকে বলে ?

টাইম মেশিন
টাইম মেশিন
টাইম মেশিন ও টাইম ট্রাভেলিংকে বুঝতে হলে আমাদের সবার প্রথমে জানতে হবে সময় সম্পর্কে । আপত দৃষ্টিতে যাকে আমরা সময় বলে বিবেচনা করি বাস্তবে কিন্তু সময় বলতে তা বোঝায় না । সময় সম্বন্ধে একাধিক স্বতন্ত্র মতবাদ রয়েছে। এর মাঝে একটি মতানুসারে সময় হচ্ছে মহাবিশ্বের মৌলিক কাঠামোর একটি অংশ যেটি একটি বিশেষ মাত্রা বা ডাইমেনশন ,যাকে চতুর্থ মাত্রাও বলা হয়ে থাকে এবং যেখানে ভৌত ঘটনাসমূহ একটি ক্রমধারায় ঘটতে থাকে । এটি বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি যা আইজ্যাক নিউটনের তত্ত্বসম্মত। এই মতানুসারে সময় একটি ভৌত রাশি , যা পরিমাপযোগ্য এবং এর পরিবর্তণ প্রতক্ষ করা যায় ।

আরো পড়ে আসতে পারেনঃ

কোন ডিসপ্লে আপনার জন্য সেরা? ডিসপ্লের প্রকারভেদ নিয়ে বিস্তারিত

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? বিস্তারিত আলোচনা

টাইম মেশিন বলতে কি বোঝায় ?

টাইম মেশিন
টাইম মেশিন
টাইম মেশিন একটি চতুর্মাত্রিক কাল্পনিক যন্ত্র যান যা আমাদের এই  ত্রিমাত্রিক জগতের যে কোন জায়গায় যে কোন সময়ের সাপেক্ষে চলতে পারে । সোজা ভাষায় ,অতীত বা ভবিষ্যতের যেকোন সময়ের যে কোন জায়গায়  আপনি চলে যেতে পারেন এই টাইম মেশিন বা সময়কে অতিক্রম করার যানে করে । আমরা যেহেতু ত্রিমাত্রিক পৃথিবীতে বসবাস করি তাই আমাদের কাছে  গন্তব্য বলতে কোন নির্দিষ্ট স্থানকে বুঝে থাকি (যেমনঃ ঢাকা, রাজশাহী,কুষ্টিয়া ইত্যাদি ) ।কিন্তু টাইম মেশিন সম্পর্কে ধারণা নিতে হলে আমাদের আরেকটা মাত্রা বিবেনা করতে হবে । আর এই চতুর্থ মাত্রাটা হচ্ছে সময় । এই চতুর্থ মাত্র বিবেচনা করে  চতুর্মাত্রিক যানের জন্য গন্তব্য হচ্ছে সময় (যেমন ১৯৮০ ,১৯৯০.১০০০ সাল ইত্যাদি)। স্থান, কাল ও সময়ের মাঝের একটা সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব হয় টাইম মেশিন এর মাধ্যমে ।

টাইম ট্রাভেলিং থিওরী ।

টাইম মেশিন
টাইম মেশিন
আমাদের পৃথিবীর বাইরে মহাশূন্যকে আপাত দৃষ্টিতে ত্রিমাত্রিক মনে হলেও বাস্তবে তা  চতুর্মাত্রিক ।  বিজ্ঞানীর গবেষণা করে বের করতে সক্ষম হয়েছেন যে , কোন বস্তু যদি আলোর বেগে চলে তাহলে তা টাইম মেশিন এর মত কাজ করতে পারে । এর মুল থিওরীটা অনেকটা এমন ,এই মুহুর্তে আমরা যা দেখছি তা আসলে ১০ সেকেন্ড আগেই হয়ে গেছে অর্থাৎ আপনি এই লেখাটি ১০ সেকেন্ড আগে দেখেছেন কিন্তু তা আপনার কাছে এইমাত্র মনে হচ্ছে । এখন এই দশ সেকেন্ড সময় এর যে গ্যাপ আপনি প্রত্যক্ষ করলেন তা আসলে অত্যান্ত দ্রুত গতির যন্তের মাধ্যমে বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন । অন্তত থীওরিটিক্যালি  এইটা প্রমানিত হয়েছে । যার উপর ভিত্তি করে কাল দীর্ঘায়ন ও সঙ্কোচন এর মত ব্যাপার গুলো ব্যাখা করা সম্ভব হয় । এটি টাইম ট্রাভেলকে এর বাস্তবতার দিকে আরো এক ধাপ এগিয়ে দেয় । আপাত দৃষ্টিতে এটাকে সাইন্স ফিকশন মনে হলেও বাস্তবে কিন্তু এইটা হতেই পারে ।

ডাইমেনশন বা মাত্রা ও সময় এর মাঝে সম্পর্কে ।

 
কোন বস্তু দিমাত্রিক বলতে বোঝায় তার দৈঘ্য আছে এবং আছে প্রস্থ , যেমন ব্লাক বোর্ড , । এখন ত্রিমাত্রিক বস্তু যার  দৈর্ঘ্য , প্রস্থ , পুরুত্ব আমাদের নিজের দেহের দিকে তাকালে তা খুব ভাল ভাবেই বোঝা যাই অথবা আমরা পানির বোতলকে বিবেচনা করতে পারি ত্রিমাত্রিক বস্তু হিসাবে  । দিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক বস্তু সম্পর্কে ধারণা লাভের পরে আমাদের স্বভাবই প্রশ্ন আসে তাহলে চারমাত্রিক বা চতুর্থ মাত্রিক ব্যাপারটা কি ?  বিশ্ব বিখ্যাত বিজ্ঞানী এবং টাইম ট্রাভেল এক্সপার্ট স্টিফেন হকিংস এর মতে সময় হল চারমাত্রিক যা কিনা দৈর্ঘ্য , প্রস্থ , পুরুত্ব এর মতই । যদিও তার এই সজ্ঞা থেকে চতুর্থমাত্রিক বস্তু সম্পর্কে ধারণা লাভ করা কঠিন হয়ে পড়ে , তাই উদাহরণ এর মাধ্যমে বিষয়টা ক্লিয়ার করার চেষ্টা করছি । বিবেচনা করি  ,আপনি  একটি গাড়ি চালাচ্ছি ।  গাড়িটি গাড়িটি যখন সামনের দিকে যাবে তা হল  প্রথমমাত্রা । এখন গাড়িটি যদি  কোন কারণে ডান অথবা  বামে যায় তাহলে সেটা  দ্বিতীয় মাত্রা মাত্রা বলে বিবেচিত হবে  । গাড়িটি যদি ওপরের দিকে উঠতে থাকে তাহলে সেটা তৃতীয় মাত্রা । আর এই সমল ঘটনা যেহেতু সময় এর সাপেক্ষে ঘটছে তাই সময়কে এখনে বলা হয়েছে চতুর্থ মাত্রা । স্থান আর কাল আর তাদের মাঝে সময় এই গুলোকে  নিয়েই মুলত এখানে চুতুর্থ মাত্রা বা সময়কে উপস্থাপন করা হয়েছে ।

টাইম মেশিন তৈরী ও বাস্তবিকতা ।

আমরা অনেকেই টাইম বা সময় ডাইলেশন এর ব্যাপারে কিছুটা জানি । আর যারা জানি না তাদের জন্য বলছি টাইম ডাইলেশন হল এমন একটা ব্যাপার ধরা যাক দুই যমজ ভাই রাম আর রহিম । রাম পৃথিবীর বাইরে গেলে একটা রকেটে করে এবং সে রকেটের গতি ধরেই নিলাম হল আলোর গতির সমান বা তার চেয়ে বেশি । এমন পরিস্থিতীতে রামের কাছে মনে হবে স্ময় অনেক ধীরে চলছে । আর এই দিকে রহিম যে পৃথিবীতে আছে তার কাছে স্ময় স্বাভাবিক বলেই মনে হবে । এতে করে রাম ও রহিমের সময়ের মাঝে একটা ব্যাবধান চলে আসবে । আর এইটাকেই বলা হয়ে থাকে টাইম ডাইলেশন বা সময় এর সঙ্কোচন প্রসারন । এই টাইম ডাইলেশনকে কাজে লাগিয়েই মুলত টাইম মেশিন তৈরীর ব্যাপারে চিনাত করা হয় । কিন্তু বাস্তবতা হল এই যে আলোর বেগের সম বেগ তো অনেক দুরের কথা মানুষ মোটে শব্দের বেগের কয়কগুন মাত্র গতি অর্জন করতে পেরেছে । তাই টাইম মেশিন বানোর চিন্তা করার আগে আলোর বেগের গতি অর্জন নিয়ে গবেষণা করা হয় ।

ভবিষ্যতে কি টাইম ট্রাভেল করা সম্ভব ?

এই ব্যাপারে কথা বলতে হলে আইনস্টাইনের রিলেটিভিটি নিয়ে একটু কথা বলার দরকার । আইনস্টাইন তার বিখ্যাত রিলেটিভির সুত্রে বলেছিলেন গ্রাভীটি বা মহাকর্ষ বল  সময়কে ধীর করে ফেলে। অর্থাৎ এই সুত্র বিবেচনা করলে একটা  ঘড়ী 10 তলায় একটু দ্রূত চলে  এবং গ্রাউন্ড ফ্লোর তার চলমানতা একটু কম হবে । তার মানে ঘড়িটা পৃথিবীর কেন্দ্রের একটু কাছাকাছি বলে গ্রাভীট্যাশনাল শক্তির  প্রভাবে তার সময় একটু ধীরে চলবে । তবে এটা আপনে আমি কখনোই অনুভব করতে পারবো না । কেননা এই পরিবর্তন হাজার ভাগের এক ভাগ দ্বারা বিবেচিত হবে । তো এটা থেকেই বোঝা যাচ্ছে আসলে সময়কে অতিক্রম করা আসলে কত বেশি কঠিন একটা ব্যাপার । একটা হিসাব থেকে দেখা গিয়েছে নির্দিষ্ট উচ্চতার সাপেক্ষে সময় 30% শতাংশ ধীর হতে পারে পৃথিবীর সময় থেকে । কিন্তু এই গুলো সবই এক একটা থিওরী যার বাস্তবিক্তা থাকলেও প্রয়োগ করা এখন ও সমভব হয় নি । তাই ভবিষ্যতের টাইম মেশিন বা টাইম ট্রাভেলিং এর ব্যাপারে আপাত দৃষ্টিতে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না ।
আশা করি আপনারা আজকের লেখা থেকে টাইম ট্রাভেলিং ও টাইম মেশিন সম্পর্কে খুব ভাল একটা ধারণা লাভ করতে পেরেছেন । প্রযুক্তিকে সহজ ভাবে বোঝার জন্য আমাদের সাথেই থাকুন আর প্রযুক্তিকে ভালোবাসুন ।
  1. Tahmid says

    ঘড়ি শুধু টাইম কে রিপ্রেজেন্ট করে, বাট ঘড়িই তো সময় না!

  2. শেখ হামযা says

    জাগতিক সময়কে নির্দেশ করার জন্য যে যন্ত্র দ্বারা সময় এর হিসাব রাখা হয় তা হলো ঘড়ি । আর আপেক্ষিক সময় তো আলাদা ব্যাপার যা স্থান ও বস্তু নিরপেক্ষ ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.