চাঁদ না থাকলে কি হতো পৃথিবীর ?

চাঁদ না থাকলে কি হতো পৃথিবীর ?

আমাদের নক্ষত্র  চাঁদ যেটি ছাড়া হইতো এই পৃথিবী জীবন সম্ভব হত না । সাধারন ভাবে চাঁদ আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় ৩ লক্ষ ৮৪হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং প্রতি এক বছর অন্তর অন্তর চাদ আমাদের পৃথিবী থেকে প্রাই ৪ সেন্টিমিটার অথবা ১.৫ ইঞ্চি দূরে সরে যাচ্ছে ।চাঁদ এর গুরুত্ব আমাদের জিবনে যে কত গুরুত্ব পূর্ন সেটা আমরা বুজতে পারি না । বর্তমানে আমাদের জীবন যাত্রা খুবই বাস্ততা পূর্ণ আর এই বাস্ত লাইফে চাঁদ নিয়ে ভাবার সময় পাই না আর কেউ  সময় পেলেও কেউ ভেবে দেখিনা । শুধু মাত্র এই চাঁদের কারনে আমাদের এই পৃথিবীতে মানুষ এবং অন্যান্য জীব জন্তুর অস্তিত্ব টিকে আছে বৈজ্ঞানিক রিসার্জ দ্বারা বলা এই সব কথা আমরা সাধারন মানুষরা হইতো ধারনা করতে পারি না, যে চাঁদ আমাদের লাইফে এতো গুরুত্ব পূর্ন কেন ?

আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো  যে চাঁদ না থাকলে কি হত এই পৃথিবীর ? 

যদি চাঁদ না থাকতো তাহলে আমাদের এই সুন্দর পৃথিবী আজ এক অন্য পৃথিবী হয়ে যেত । এমনটি নয় যে চাঁদ আমাদের পৃথিবীতে সব সময় ছিল  । ঘটনা টি ঘটে প্রায় 4.5 বিলিয়ন কোটি বছর আগে । পৃথিবী নির্মান হবার পর মংগল গ্রহের মত একটা গ্রহ সোজা এসে পৃথিবিকে ধাক্কা মারে যা ফলে অনেক অনেক লাভা আর ধুলো মহাকাশে ছড়িয়ে যায় এবং সময় এর সাথে সাথে এই সব লাভা আর ধুলো পৃথিবীর চারি দিকে ঘুরতে থাকে এবং একত্রিত হতে থাকে  আর এভাবেই সৃষ্ট হয় আমাদের পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদের ।  

 

এখন আপনি ভাবছেন হইতো এর সাথে পৃথিবীতে জ়ীবন থাকা না থাকার কি সম্পর্ক? 

 

তাহলে শুনুন যদি চাঁদ পৃথিবীর রটেশনাল স্পিড কে স্লো  ডাউন না করত একদিন মাত্র ছয় ঘন্টার হত অর্থাৎ তিন ঘন্টা দিন এবং তিন ঘন্টা রাত হত এবং এত বেশি স্পিডে ঘুড়ার কারনে পৃথিবী সূর্যের আলোকে ঠিকঠাক ভাবে এসব করতে পারতো না । আর এই কারনে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ও খুবি অল্প  থাকতো । আর পৃথিবীর সকল পানি সব সময় কঠিন অবস্থায় থাকতো অর্থাৎ পৃথিবী সব সময় বরফে ঢাকা থাকতো এবং পৃথিবী স্থলে বসবাস করার মত কোন প্রানীর অস্তিত্ত থাকতো না । পৃথিবীতে জীবন তো থাকতো কিন্তু সেগুলো মাইক্রো অর্গানিজম ফরমে থাকতো। আবার ধরে নেই এত কিছুর পরও যদি পৃথিবী গরম থাকতো তাহলে এত স্পিডে ঘোরার কারনে পৃথিবীর ভুপৃষ্ঠে অথবা সারফেছে সব সময় ২০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া চলতো। আর এই কারনে পৃথিবীতে কোন পশু ,পাখি  অথবা পোকামাকর সারভাইব করে বেচে থাকতে পারতো না । 

 

এবার চাঁদের কিছু গুরুত্ব পূর্ন অবদান নিয়ে কথা বলা যাক 

কি ভাবে চাঁদ পৃথিবীর গতিকে কম করে ? 

যদি আপনাকে  এক জাইগায় দাড়িতে  ঘুরতে বলা হয় আপনি হইতো খুব সহজেই খুব তেজ গতিতে  ঘুরতে পারবেন কিন্তু আপনাকে যদি একটা ভারি বস্তুকে হাতে ধরে ঘুরতে বলা হয় তাহলে হইতো আপনি আর আগের গতিতে ঘুরতে ঘুরতে পারবেন না। চাঁদ এর গ্রাভিটেশনাল ফোর্স ঠিক একই ভাবে পৃথিবীকে আর্কষন  করে আছে যার করনে পৃথিবী তার পূর্ন গতিতে ঘুরতে পারছে না আর এভাবেই চাঁদ পৃথিবীর গতিকে কমিয়ে রেখেছে ।

 

কি ভাবে চাঁদ আমাদের পৃথিবী একসিস কে স্টেবল রেখেছে ?

চাঁদ পৃথিবীর একসিসকে ২৩.৫ ড্রিগ্রী এংগেলে ঝুকিয়ে রেখেছে যার কারনে পৃথিবীর একসেস স্টেব্ল থাকে । যদি চাঁদ না থাকতো তাহলে পৃথিবীর একসিস স্টেবল থাকতো না যার ফলে পৃথিবীর একসিস অনিমিত ভাবে পরিবর্তন হত । কখনো বৃহশপতি গ্রহের কাছে আসার কারনে আবার কখনো  মংগল গ্রহের কারনে আবার কখনো পৃথিবীতে হওয়া ভূমি কম্পের কারনে। যার কারনে পৃথিবীর জলবায়ুর 

পরিবর্তন হতে থাকতো। নর্থ পুলের সকল বরফ গলে যেয়ে পৃথিবীর স্থল ভাগ ডুবিয়ে দিত আবার কোন কোন স্থানে অসাভাবিক বৃষ্টি পাত হত আবার কোন কোন স্থানে প্রকান্ড আকারে খড়া দেখা দিত। যার কারনে পৃথিবীর সকল জীব যন্তু মারা যেত। কোন জীব যন্তুই আর বেঁচে থাকতো না আর পৃথিবীর সকল স্থান পানির নিচে ডুবে যেত যার কারনে কোন ভাবেই আর ফসল উৎপাদন করা যেত না। আমরা যদি কোন বিকল্পো উপায় ও যদি বের করতাম তার পরেও কোন রকম উদ্ভিতকে বাঁচাতে পারতাম না কারন সকল পোকামাকর আর পাখি মারা গেলে উদ্ভিদ আর তারদের বংশ বৃদ্ধি করতে পারতো না যার ফলে পৃথিবীতে জীব এর অস্তিত্ত চির দিন মত ধ্বংস হয়ে যেত।

 

 চাঁদ ছাড়া কি পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ত সম্ভব ছিল?

 

এই বিষয় টি আপনাদের কাছে একটু ইন্টারেস্টিং লাগতে পারে । যখন চাদের র্নিমান হয় তখন চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছে ছিল । এখন কার তুলোনায় প্রায় ১০ গুন বেশি কাছে ছিল । আমরা  জানি যে জীবন এর সূত্র পাত হয় পানি থেকে আর সমুদ্রের পানিতে প্রথম জীবন সৃষ্টি হয়। চাঁদের মধ্য কর্ষন শক্তির কারনে সমুদ্রে বড় বড় ঢেউ এর সৃষ্টি করতো । চাঁদের কারনে এই জীবন সমুদ্রের গভীরতা থেকে ভূপৃষ্ঠে আসার সুযোগ পাই ,  আর সেখান থেকে জীবনের বিকাশ শুরু হয় । আমরা চাঁদ ছাড়াতো জীবনের কল্পনা করতে পারি কিন্তু চাঁদ না থাকলে হইতো আজ আমরায় থাকতাম না । 

 

Food Chain  চালনার ক্ষেত্রে  চাঁদের কি অবদান ?

 

খাদ্য চক্র বা ফুড চেইন ও চাঁদের অবদান আছে । চাঁদের আলোর কারনে সমুদ্রের গভিরে থাকা প্রানি গুলো উপরে প্লাংকন অথবা ছোট জলজ উদ্ভিত খেতে আশে। চাঁদের কারনে সৃষ্টি জোয়ার ভাটার মাধ্যমেই তারা উপরে উঠে আসতে পারে ।  ছোট প্রানী চাঁদের আলোকে কাজে লাগিয়ে, এই খাবার গুলো খুজে পাই আর তার থেকে বড় প্রানী গুলো তখন তাদের খায় আর এভাবে তার থেকে বড় এবং তার থেকেও বড় প্রানী খাওয়ার পায় । আর এভাবেই চলে সমুদ্রের ফুড চেইন । 

কি হবে  যদি চাঁদ কখনো ফেটে যায় বা হারিয়ে যায় ?

 

তাহলে পৃথিবীর সকল প্রকার প্রজাতি বড় বিপদে পরে যাবে  । পৃথিবীর কন্ডিশন হঠাট করেয় বদলে যাবে আর পৃথিবীর AXIS বা ভারসাম্য হটাত করেয় নস্ট হইয়ে যাবে। এই জন্য পৃথিবীর টেম্পারেচার ভয়ংকার রুপে বদলাতে থাকবে আর সকল প্রকার প্রানিকেই  ওয়েদার অনুযায়ি নিজের স্থান ঘন ঘন বদলাতে হবে । আর এইসব এর কারনে সকল ছোট প্রানী মারা যাবে , বরফ গলে সব কিছু ডুবে যাবে , পৃথিবীর সকল ফুড চেইন নষ্ট হয়ে যাবে । পৃথিবীর সকল জাইগার আবহাওয়া আকস্কিক রুপে চেঞ্জ হয়ে যাবে । অসাভাবিক হারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে এবং তাছারা সকল অগ্নিয়গীরী বিস্ফরিত হতে থাকবে আর আস্থে আস্থে প্রানের অস্তিত্ত বিলুপ্ত হতে থাকবে। কিছু প্রানী এত কিছুর পরও নিজের টিকিয়ে রাখবে কিন্তু তাদের ও একটি বড় বিপদের সম্মুখিন হতে হবে । চাঁদের জন্য পৃথিবী নিজের ভারসাম্য টিকিয়ে রেখেছে  , আপনারা জানেন যে চাঁদের গ্রাভিটেশনাল পুল এর কারনে পৃথিবীতে জোয়ার ভাটা হয় , যদি চাঁদ না থাকে তাহলে এই গ্রাভিটেশনাল পুল ও থাকবে না । চাঁদের হারিয়ে যাওয়ার ফলে পৃথিবী নিজের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলবে এবং এর কারনে সামুদ্রের পানি ফুলে ফেপে উঠবে । শুরু হবে বিশাল এক সুনামি আর পৃথিবীর প্রায় সকল দেশ এই সুনামীর কবলে পরবে । পৃথিবীর পায় ২০ শতাংশ মানুষ এই সুনামির কারনে মারা যাবে । হইতো এই সুনামির জন্য খাদ্যের বিশাল সংকঅট দেখা দিবে । এক কথায় সুন্দর পৃথিবী আর পৃথিবী থাকবে না এটি হয়ে যাবে অন্য একটি পৃথিবী যেখানে মানুষ লড়ায় করবে খাদ্যের জন্য, চিকিতস্যার জন্য , আশ্রয় এর জন্য এক কথায় বেঁচে থাকার জন্য ।  অথচ আমাদের দৈনিন্দ্য জিবনে আমরা চাঁদের গুরুত্ব বুঝি না । 

 

আজকে এই পর্যন্ত আবার আসবো আপনাদের মাঝে নতুন কোন ইনফরমেশন নিয়ে , সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই কামনা নিয়ে শেষ করছি ।

Emoo Blaze

Add comment