তথ্য জানার সহজ মাধ্যোম

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি ? বিস্তারিত আলোচনা

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কিছু কথা ।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বর্তমান যুগের এক যুগান্তকারী আবিষ্কার বলে বিবেচিত হয় । কিন্তু আমরা কতটা জানি এই আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপারে । এই বছর আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময় একটা নিউজ সারা বিশ্বের নজর কেড়েছিল তা কতটা সত্যি বলা না গেলেও ব্যাপারটা অনেক ভাবনার ছিল । সেখানে বলা হয়েছিল ফেইসবুক নাকি তাদের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বন্ধ করে দিচ্ছে কেননা তারা নাকি নিজেদের মাঝে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষ এক ভাষা ব্যবহার করছে ,যা মানুষের বোঝার বাইরে ।
আমাদের চার পাশে অনেক উদাহরণ রয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপারে । একটা সিম্পল উদাহরণ দিয়ে শুরু করি । আমাদের সবার মেইল এ্যাকাউন্ট এ একটা স্পাম বক্স রয়েছে । সিস্টেম কোন এক পদ্ধতির মাধ্যমে এই স্পাম মেইল চিনতে পারে এবং  স্পাম ফোল্ডার এ জমা করে । কিন্তু এইটা কিভাবে হয় ?
এছাড়া আপনি ইউটিউবে কোন ভিডিও দেখলে সেই ভিডিও রিলেটেড আরো অনেক ভিডিও আপনাকে রিকমান্ড করা হয় । তাহলে আপনার ব্রাউজার বুঝে কি করে এই ব্যাপার গুলো ? আসলে এই সব গুলোই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর খেলা । এর পেছনে রয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স  এর অবদান ।
সুতরাং এমন পরিস্থিতিতে আমাদের জানা দরকার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ব্যাপারে । আজকের এই লেখায় থাকছে  আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর উপর বিশদ বিবরণ যেমন এটা  কি,এটা কিভাবে কাজ করে , এটা কিভাবে এলো, কেন এটা দরকার এবং বিস্তারিত । তাই আর বেশি কথা না বলে মুল আলোচনায় চলে যাই ।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বলতে কি বোঝায় ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা  কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি শাখা, যেখানে মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার দ্বারা অনুকৃত করার চেষ্টা করা হয়ে থাকে। মানুষ যেরকম বুদ্ধিমান, মেশিন কে সেইরকম বুদ্ধিমান করার এই প্রচেষ্টাই হলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স । সোজা ভাষায় বলতে গেলে, কম্পিউটার বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে মানুষের বুদ্ধিমত্তা  দক্ষতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা , শিক্ষা গ্রহন সমস্যার সমাধান , রাগ , হাসি কান্নার মত নানা ইমোশন যন্ত্রের মাঝে প্রতিস্থাপন করা যাতে যন্ত্র যা তার পরিবেশকে অনুধাবন করতে পারে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে ।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ইতিহাস ।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কথাটার সাথে আমরা খুব বেশিদিনের পরিচিত না হলেও এর পেছেনের গল্প কিন্তু খুব একটা ছোট না । মজার ব্যাপার হলো কম্পিউটার আবিষ্কারের অনেক আগে থেকেই মেশিনকে কিভাবে মানুষের মত চিন্তা করার ক্ষমতা দান করা যাই তাই নিয়ে গবেষণা হয়ে আসছিল । চিন্তা করতে সক্ষম কৃত্রিম মানুষ মূলত গল্প বলার যন্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল অনেক আগেই । প্রাচীন গ্রিস এ একটি যন্ত্র তৈরির চেষ্টা করার ধারণাটি সম্ভবত রামন লোল (1300 খ্রিস্টাব্দে) । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে’র পর পরই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে ব্যাপক গবেষণা শুরু করা হয় তখন ইংরেজ গণিতবিদ অ্যালান টুরিং ১৯৪৭ সালে  আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে প্রথম  বক্তব্য দেন । তার বক্তব্য ছিলো কোন একটা মেশিন যদি মানুষের মত চিন্তা করতে পারে, কাজ করতে পারে তবে তাকে বুদ্ধিমান বলা উচিত! বলতে গেলে এই সময় থেকেই বিজ্ঞানীগণ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে আলাদা আলাদা ভাবে গবেষণা শুরু করেন । কম্পিউটার নামের জাদুর যন্ত আবিষ্কারের পরে তা অনেক বেশি বেগমান হয়েছে শুধু । কিন্তু মনে রাখতে হবে এর যাত্রা শুরু হয়  সেই গ্রিক সময় থেকেই । প্রাচীন কাল থেকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রোয়োগ হলেও বিগত দুই তিন বছর ধরে এর ব্যাপারে ব্যাপক চর্চা হচ্ছে ।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর মুল বিষয় কী ?

মানুষ কোন কিছুই জন্মের সময় শিখে আসে না । পৃথিবীতে আসার পরে নানা বস্তু , সামজ এবং সামাজিক জীবন থেকে দেখে ,বুঝে, ভুল করে শিক্ষা লাভ করে । তার পাশা পাশি প্রাতিষ্ঠানিক ভাবেও তাকে শিক্ষা প্রদান করা হয়ে থাকে । মেশিন এর ক্ষেতেও অনেকটা এমন করা হয়ে থাকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর কল্যানে । মেশিনকে শেখানো হয় নান ব্যাপার যাতে সে আর্টিফিশিয়ালি বা কৃত্রিম ভাবে বুদ্ধিমান হয়ে উঠতে পারে । এই জন্য ব্যবহার করা হয় প্রোগাম বা এ্যালগরিদম । মেশিন তার বিভিন্ন সেন্সর এর মাধ্যমে পরিবেশ থেকে তথ্য নিতে পারে এবং তার পবিপরীতে তাকে যে ভাবে প্রোগ্রাম করা হয়েছে ্সে অনুপাতে সাড়া দিতে পারে । আর এটাই হলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স
এলন মাস্ক  নামের একজন বিজ্ঞানী  নিউরালিঙ্ক নিয়ে কাজ করছেন যার মাধ্যমে মানুষের বুদ্ধিমত্তা সরাসরি মেশিন এর মাঝে স্থানান্তরিত করা যাবে । তবে এখনো মেশিন মানুষের মত নিজে নিজে শেখা’র ক্ষমতা অর্জন করে নি তাই তাকে শেখানোর প্রোয়োজন হয় । কিন্তু এমন একটা দিন আসতে খুব একটা দেরি হবে না যখন মেশিন নিজেরাই শিক্ষা লাভ করতে পারবে ।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স একক কোন বিষয় না অনেক গুলো জটিল বিষয়ের সমষ্টি ।এ গুলোর মাঝে রয়েছে মেশিন লার্নিং  এবং এর আরেক সাব সেট হচ্ছে ডিপ লার্নিং । আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে ভালো ভাবে বুঝতে হলে এর সাব সেট গুলো বা যে সকল বিষয়ের উপর ভিত্তি করে এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কাজ করে তা ভালোভাবে বোঝা দরকার ।

মেশিন লার্নিং কি ?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স
মেশিন লার্নিং বলতে মুলত বোঝায়  অনেক ডাটা বা তথ্য থেকে সংক্ষিপ্ত কিছু পরিমান  অর্থবহুল বা টার্গেটেড তথ্য খুজে  বের করা আনা  এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী  ধাপে কি হবে সে ব্যাপারে শুরুতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রোগ্রামকে । উদাহরণের মাধ্যমে বুঝতে সুবিধা হবে আপনাদের । যেমন স্পাম ইমেইল চিহ্নিত করার সিস্টেম । সিস্টেমকে এমন ভাবে প্রোগ্রাম করা হয় কিছু কি ওয়ার্ড বা প্যাটার্ণ এর মাধ্যমে যা স্পাম মেইলে কমন আকারে থাকবে । অর্থাৎ সকল মেইলে বা অধিকাংশ স্পাম মেইলে তা থাকবে।  মেইল বক্সে কোন মেইল আসলে সিস্টেম তার পুর্ব প্রোগ্রাম করা প্যাটার্ণ এর সাথে মিলিয়ে দেখে । যদি স্পাম ডিটেক করার জন্য প্রোগ্রামে যে সকল কি ওয়ার্ড ব্যাবহার করা হয়েছে অথবা প্যাটার্ণ প্লান করা হয়েছিল তার সাথে মিলে যাই তাহলে সিস্টেম একে স্পাম ফোল্ডার এ অটোমেটিক পাঠিয়ে দেয় । এটাই হলো মেশিং লার্নিং । এখানে মেশিন সব মেইল গুলো নিজের মত করে পড়তে পারে , যা সম্ভব হয় প্রোগ্রাম এর মাধ্যমে ।

ডিপ লার্নিং কি ?

সোজা সুজি বলতে গেলে ডিপ লার্নিং হলো মেশিং লার্নিং এর একটা অংশ বা সাব সেট বলা যেতে পারে । সিস্টেমকে কোন কিছু শেখানোর জন্য সাধারণত ডিপ লার্ণিং ব্যাবহার করা হয়ে থাকে । মেশিন যাতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা বুঝতে পারে এবং তার জন্য প্রোয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে সেই জন্যই ডিপ লার্নিং এর ব্যাবহার ।এক্ষেত্রে কম্পিউটার প্রোগ্রাম ব্যাবহার করা হলেও ডিপ লার্নিং মুলত বাহ্যিক সমস্যা নির্ধারণ করার ক্ষমতার জন্য সেন্সর এর উপর নির্ভর করে । আর অনেক তথ্য কোন একটা সিস্টেম এ প্রবেশ করাতে ব্যবহার করা হয় নিউরাল নেটওয়ার্ক । এই নিউরাল নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স মুলত নতুন নতুন সমস্যা বুঝতে পারে এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে ।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর গুরুত্ব

একটা  পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে  ২০১৭ সালে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এ ইনভেস্টমেন্ট ৩০০% বৃদ্ধি পেয়েছে ২০১৬ থেকে !বড় বড় কম্পানি যেমন  গল , অ্যাপল, মাইক্রোসফট ব্যাপক গবেষণা চালাচ্ছে এই খাতে । এর পেছনের মুল লক্ষ হলে মানব নির্ভর জীবন ব্যাবস্থা থেকে বের হয়ে আসা । মানুষ নানা কারনে অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে কিন্তু মেশিন যখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যাবহার করে তখন এর হার অনেক কম । এছাড়া মেশিন এর মাধ্যমে নিজের কাজ নিজে খুব ভাল ভাবে করতে পারে যেখানে কর্মদক্ষতা ৯০% এর কাছা কাছি পৌছায় । তাছাড়া এর মাধ্যমে মেশিন এর সামাজিক জীবন ব্যাবস্থার মাঝে ঢুকে পড়ার একটা সুযোগ হয়ে যাচ্ছে যাতে করে  এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যাবহারে আমাদের সামাজিক জীবন অন্যমাত্রায় পৌছাবে । মানুষ এর সাথে কথা বলা এবং তার উত্তর দেওয়ার মত রোবর্ট আজকের এই দিনে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স  এর জন্যই বাস্তবে রুপ লাভ করেছে ।
আশা করি এতক্ষনে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স  এর ব্যাপারে একটা স্পষ্ট জ্ঞান লাভ করতে পেরেছেন । তার পরেও শেষে এক বাক্যে একটা কথা বলতে চাই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স হলো এমন একটা সিস্টেম যেখানে মানুষের জ্ঞান,বুদ্ধি, চিন্তা,চেতনাকে যন্ত্রের মাঝে প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা করা হয় ।
প্রযুক্তির সাথে থাকুন আর প্রযুক্তিকে ভালোবাসুন

Leave A Reply

Your email address will not be published.