ব্যাটারি

ব্যাটারি

ডিসপোজেবল বনাম রিচার্জেবল ব্যাটারিঃ এরা কিভাবে কাজ করে? এবং আপনি কোনটি কিনবেন?

অনেক আধুনিক গ্যাজেটগুলি এখন লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করে। কিন্তু অন্যান্য অনেক ডিভাইস আছে,যেগুলো এই ধরনের পাওয়ারে’র জন্য উপযুক্ত না হয়। অনেকেই দ্বিধায় ভোগে যে কোন ব্যাটারি তার জন্য কিনা উচিৎ হবে।  আবার ব্যাটারি কেনার পর অনেকেই সুবিধা করতে পারেন না। এসব ব্যাটারির ভিতর আসলে কি পার্থক্য? এখানে আসলে ব্যাপার হলো,বিজ্ঞান,চাহিদা  এবং খরচ। এছাড়া,কম জানা এবং কিছুই না জানাও এই দ্বীধায় ভোগার কারণ হতে পারে। আমাদের আগে জেনে নেওয়া উচিৎ এই সমস্ত ব্যাটারি সংক্রান্ত ব্যাপার গুলো।

চলুন,জেনে নেওয়া যাক ব্যাটারি সংক্রান্ত বিস্তারিতঃ

ব্যাটারির সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ 

প্রথমে আমাদের ব্যাটারির ইতিহাস টা জেনে নেওয়া উচিৎ:
১৮০০ সালের দিকে বিজ্ঞানী “আলেসান্দ্রো ভোল্টা” সর্বপ্রথম কার্যকরী ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বা তড়িৎচৌম্বকীয় ব্যাটারী উদ্ভাবন করেন। যেটা খুব অদ্ভূত ধরনের ছিল।  কপার এবং জিংকের কিছু প্লেট একটার উপরে আরেকটা স্তুপিকৃত করে রাখেন। তারপর ভিন্ন ধাতুর সেই প্লেটগুলোকে ব্রাইন অর্থাৎ সোডিয়াম ক্লোরাইডের সম্পৃক্ত জলীয় দ্রবণ এ সিক্ত পেপার ডিস্ক দ্বারা পৃথক করেন। মূলত,এখান থেকেই সর্বপ্রথম ভোল্টেজ উৎপন্ন হয়।  সেটিকে ভোল্টেইক পাইল নাম করণ করা হয়। বর্তমানে আমরা যে সব ব্যাটারি দেখি,সে-সব্‌ই ভোল্টেইক পাইল এর আধুনিক রূপ!

বিজ্ঞানী ফ্রিডরিক ১৮৩৬ সালে ব্যাটারির ডিজাইনকে আরও একটু প্রমিত করেন. তিনি দুটি পাত্র নেন।যার একটাতে কপার সালফেট দ্রবণ এবং অপর পাত্রে জিংক সালফেট এর দ্রবণ নেন।
তারপর কপার সালফেট দ্রবণে কপার ইলেক্ট্রোড এবং জিংক সালফেট দ্রবণে, জিংক ইলেক্ট্রোড স্থাপন করে তাদেরকে একটা তার দ্বারা সংযুক্ত করেন তিনি। এর কিছুক্ষন সেখান থেকে অবিশ্বাস্যভাবে তড়িৎ প্রবাহ লক্ষীয়মান হয়।
বিজ্ঞানীর নাম অনুসারে এই সেল গুলোর নামকরণ করা হয়, ডেনিয়েল সেল।

এরপর প্রায় শ’দুয়েক বছর পর অর্থাৎ মূলত ১৯৭৯ সালে’র দিকে রিচার্জেবল ব্যাটারি তৈরী হয় এবং সেই সাথে ব্যাটারির প্রযুক্তির আমূল পরিবর্তন আসে। পূর্ব তৈরীকৃত ব্যাটারি গুলো সাধারণত একবারের বেশি ব্যবহার করা যেতো না। কিন্তু অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট দু’জন বিজ্ঞানী John Goodenough এবং Koichi Mizushima – লিথিয়াম কোবাল্ট অক্সাইড এবং লিথিয়াম ধাতু দিয়ে ৪ ভোল্ট রেঞ্জের একটি রিচার্জেবল ব্যাটারি তৈরী করেন। এরপর যথেষ্ট পরিক্ষা-নিরিক্ষার পর ১৯৯১ সালের এটিকে সর্ব-সাধারণের জন্য বাণিজ্যিক ভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

 

ব্যাটারি কিভাবে কাজ করে?

ব্যাটারি কিভাবে কাজ করে?

ব্যাটারি কিভাবে কাজ করে?

ব্যাটারির দুই’টি প্রান্ত আছে।একটি পজেটিভ এবং অপরটি নেগেটিভ।পজেটিভ প্রান্ত বা টার্মিনালটি ক্যাথোডের সাথে সংযোগ ঘটায় এবং নেগেটিভ প্রান্ত টি অ্যানোড সাথে সংযোগ ঘটায়। ক্যাথোড এবং অ্যানোড উভয় কে ইলেক্ট্রন বলা হয়। এরা ব্যাটারি অধিকাংশ ব্যাপৃত, এবং এটি এখানে সেখানে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে থাকে। এই ইলেক্ট্রোনিয় বা তাড়িত প্রতিক্রিয়া তে আপনার ডিভাইসের বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। একটি বিভাজক ক্যাথোড এবং অ্যানোড কে স্পর্শ থেকে বাধা দেয়। কারন এখানে বিপরিত কিছু ঘতে পারে।যার ফলে,যদি এই টার্মিনাল বর্তনী সম্পূর্ণ হয় তবে বিভাজকের বিদ্যুৎ প্রবাহ থামবে না। অনবরত চলতেই থাকবে।

ব্যাটারি অক্সিডেশন এবং রিডাকশন বা হ্রাস সংমিশ্রণ মাধ্যমে কাজ করে। অ্যানোড জারিত হয় ইলেক্ট্রন হারায়, একই সময়ে, ক্যাথোড রিডাকশন বা হ্রাস সংমিশ্রণ প্রক্রিয়াইয় ইলেকট্রন শোষণ করে। এমনটি শুধুমাত্র তখনই ঘটে যখন দুটি টার্মিনাল বা প্রান্তর মধ্যে একটি বর্তনী সমাপ্ত হবে।

কেন সব ব্যাটারি রিচার্জেবল না?

কেন সব ব্যাটারি রিচার্জেবল না?

কেন সব ব্যাটারি রিচার্জেবল না?

ডিসপোজেবল ব্যাটারি সব ক্ষারীয় ব্যাটারি. যার মানে ক্যাথোড ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড দ্বারা তৈরি হয় এবং অ্যানোড জিঙ্ক পাওডার বা দস্তা গুঁড়া দিয়ে তৈরী হয় ।ইলেক্ট্রোলাইট পটাসিয়াম (অর্থাত ক্ষারীয় অংশ) হয়। অবশেষে শক্তি উত্পাদক প্রতিক্রিয়াতে অ্যানোড ক্ষত হয়ে, আরও প্রতিক্রিয়া প্রতিরোধ করে। এই মুহুর্তে, ব্যাটারি মৃত বা ডেড হয়ে যায়।

রিচার্জেবল ব্যাটারি বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনে আমরা যে ব্যাটারি দেখতে পায়,তা মূলত লিথিয়াম আয়ন হয়।লিথিয়াম আয়ন অনেক পুরাতন ব্যাটারি প্রযুক্তি। লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারিতে পলিমার ব্যবহার করা হয় এবং ভেতরের ইলেক্ট্রলাইট হিসেবে জেল ব্যবহার করা হয় ফলে ব্যাটারি অনেক ফ্লেক্সিবল বানানো সম্ভব হয়ে থাকে। এগুলি ব্যবহার লিথিয়াম কোবল্ট অক্সাইড, ক্যাথোড এবং অ্যানোড তেমন কার্বন হিসাবে। ডিসপোজেবল  ভিন্ন, বিদ্যুতের প্রবর্তনের দ্বারা আপনি ক্যাথোড থেকে ইলেক্ট্রন ফিরে পাবেন।

কিন্তু,এগুলো ঠিক রিচার্জেবল ব্যাটারির নয় যে আপনি তা disposables স্থানে ব্যবহার করতে পারেন। পরিবর্তে, আপনি নিকেল-ক্যাডমিয়াম ব্যাটারি (NiCd) ব্যবহার করতে পারেন। নিকেল ক্যাথোড এবং ক্যাডমিয়াম ক্যাথোড হয়। রিচার্জ প্রক্রিয়া যদিও নিখুঁত নয়, তাই এই ব্যাটারি রিচার্জ চক্র শতশত বারের পর মোট চার্জ ধারণক্ষমতা হারায়। সৌভাগ্যবসত, কিছু নতুন অপশন পুনঃসঞ্চারের হাজার হাজার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী চার্জ টিকে থাকতে পারে। 

আজকাল, আপনি আরো নিকেল-মেটাল hydride (NiMH) ব্যাটারী দেখতে পাবেন, যা নিকেল-ক্যাডমিয়াম ব্যাটারি চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর ডিসচার্জের হার আছে। বছর পরেও দেখা যায় তাদের চার্জ ধারন ক্ষমতা অক্ষত আছে। তাদের মোট 2x-3x চার্জ ধারন ক্ষমতা আছে।

তো প্রশ্ন হচ্ছে,কেন সকল ব্যাটারি রিচার্জেবল নয়? এখানে একটি খরচের ব্যাপার প্রথমেই আসে।ডিসপোজেবল ব্যাটারি তে যে উপকরণ  ব্যাবহার করা হয় তা তুলনামূলক ভাবে সস্তা। কারণ তারা ডিভাইসের ক্ষমতার ক্ষুদ্র প্রয়োজনে খুব ভাল কাজ করে।(উদাঃ ফ্ল্যাশলাইটের এবং লেড মোমবাতি),এটি তাই সাশ্রয়ী খরচে উৎপাদন করা যায়। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি যথেষ্ট খরচ সাপেক্ষ। কিন্তু এটি অনেক শক্তি উৎপাদন করতে পারে।  নিকেল-ক্যাডমিয়াম এবং নিকেল-মেটাল hydride ব্যাটারি মাঝামাঝি পর্যায়ে আছে।

আপনার কোন ধরনের ব্যাটারি ব্যবহার করা উচিৎ?

আপনার কোন ধরনের ব্যাটারি ব্যবহার করা উচিৎ?

আপনার কোন ধরনের ব্যাটারি ব্যবহার করা উচিৎ? 

আপনি কি ধরনের ব্যাটারি ব্যবহার করবেন সেটা মূলত নির্ভর করে, আপনার প্রয়োজন, আপনার বাজেট, এবং আপনার মান এর উপর। ডিসপোজেবল ব্যাটারি-রিচার্জেবল ব্যাটারির চেয়ে তুলনামূলক সস্তা। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি অনেক আগের প্রযুক্তি এবং বানানো অনেক সহজ তাই এর দামও অনেক কম পড়ে। আর রিচার্জেবল ব্যাটারি গুলো ব্যয়বহুল, কেনোনা এখানে ব্যাটারি কাস্টমাইজ বানানোর প্রয়োজন পড়ে।

ধরুন আপনার একটি ব্যাটারি প্রয়োজন,  ফ্ল্যাশলাইট, ডিজিটাল ক্যামেরা, গেইম কন্ট্রোলার, রেডিও, স্মোক এলার্ম, এবং থার্মোস্ট্যাট এর জন্য। এর জন্য আপনি বেশি মূল্য দিয়ে শক্তিশালী রিচার্জেবল ব্যাটারি কিনতে পারে। অন্যথা, ইচ্ছে করলে আপনি কোন দোকান থেকে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের ডিসপোজেবল ব্যাটারি কিনে সেটা দিয়েও কাজ চালাতে পারেন। আবার উল্টা দিকে ভাবলে,ঐ সব ডিসপোজেবল  ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী হবে না অন্যান্ন ডিসপোজেবল  এর তুলনায়।

এই ডিভাইসের সকল ক্ষমতার বিভিন্ন পরিমাণে আঁকা,তাই দেখা যায় কোনোটি বছর ধরে টিকে থাকে,আবার কোনোটি একসপ্তাহের ভিতর পুড়ে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এই ডিভাইসের সকল ক্ষমতার বিভিন্ন পরিমাণে আঁকা,তাই দেখা যায় কোনোটি বছর ধরে টিকে থাকে,আবার কোনোটি একসপ্তাহের ভিতর পুড়ে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। যেসব ডিভাইস এর পাওয়ার একটু বেশি যেমন, যেমন ডিজিটাল ক্যামেরা এবং গেইম কন্ট্রোলার হিসেবে, আপনার রিচার্জেবল ব্যাটারি পছন্দ করা উচিৎ. কারণ,এক্ষেত্রে আপনি স্বল্প মূল্যে ডিপজেবল ব্যাটারি ব্যবহার করলে, আপনাকে প্রতি বছর বছর স্বল্প মূল্যে এক্‌ই ব্যাটারি কিনার প্রয়োজন পরবে। কিন্তু,বেশি মূল্যে একটি রিচার্জেবল ব্যাটারি কিনলে অনেক বছর আপনি ব্যবহার করতে পারবেন সেটি।

তাই,আপনি কি ধরনের ব্যাটারি ব্যবহার করবেন সেটা একদম্‌ই আপনার উপর নির্ভর করছে। আশা করি এই পোষ্টের মাধ্যমে কিছুটা হলেও ধারণা পেয়েছেন।এখন আপনি আপনার পছন্দ মত বেছে নিন।এবং ব্যবহার করতে থাকুন।
ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য। টেক-হিলসের সাথেই থাকুন সবসময়। আমরা চেষ্টা করি নতুন কিছু আপনাদের সামনে উপস্থাপন করার। আশা করি আমাদের সামর্থন করে,আমাদের আর্‌ও ভাল ভাল পোষ্ট লিখার জন্য অনূপ্রাণীত করবেন।

 

2 Comments

Leave a Comment

%d bloggers like this: